ঢাকা, ৮ জুলাই ২০২৬ – প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল (৯ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬’ এবং ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
বুধবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, এবারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযানের প্রতিপাদ্য ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সবুজ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের বনায়ন আন্দোলনের ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে প্রথম জাতীয় বননীতি প্রণয়ন এবং বৃক্ষরোপণকে রাষ্ট্রীয় আন্দোলনে পরিণত করার উদ্যোগ নেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৪ সালে জাতীয় বৃক্ষমেলার সূচনা করে অংশীদারিত্বমূলক সামাজিক বনায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
মন্ত্রী জানান, রাজধানীতে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা ও পরিবেশ মেলার পাশাপাশি দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হবে। ঢাকার মেলায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নার্সারির অংশগ্রহণে মোট ১২০টি স্টল থাকবে।
তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। জিআইএস (GIS), রিমোট সেন্সিং, ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ এবং ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে সারাদেশের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তর ১ হাজার ৫২৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। একই সময়ে চার মাসে ৫৮১ একরের বেশি দখল হওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্লাস্টিক দূষণ কমাতে ‘উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (Extended Producer Responsibility) নির্দেশিকা-২০২৬’ প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি ইউনিসেফের সহযোগিতায় সীসা দূষণ নিয়ন্ত্রণে একটি জাতীয় কৌশলপত্রের খসড়াও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পরিবেশবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রধান বন সংরক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পরিবেশমন্ত্রী।