এমবাপের জোড়া গোলে ইরাককে উড়িয়ে নকআউটে ফ্রান্স, বজ্রঝড়ে চার ঘণ্টার নাটকীয় ম্যাচ

ঢাকা, ২৩ জুন ২০২৬: বৈরি আবহাওয়ার কারণে দীর্ঘ বিরতিতে থেমে যাওয়া প্রায় চার ঘণ্টার এক নাটকীয় ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোলে ইরাককে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স।

ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘আই’ গ্রুপের ম্যাচে ফ্রান্সের হয়ে অপর গোলটি করেন উসমান দেম্বেলে। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর শেষ হয় রাত প্রায় ৯টায়।

ফ্রান্সের জার্সিতে নিজের শততম ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখেন এমবাপে। জোড়া গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা চারটিতে উন্নীত করেন তিনি।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৬ ম্যাচে এমবাপের মোট গোল ১৬টি। এতে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার সমান উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন। অন্যদিকে, ১৮ গোল নিয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে রয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

ম্যাচের শুরু থেকেই ইরাকের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে ফ্রান্স। ১৪তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বাঁ-পায়ের শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপে।

প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হলেও বিরতির সময় প্রকৃতির বাধায় খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ম্যাচ শুরুর আগেই ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের পূর্বাভাস ছিল। প্রথমার্ধ চলাকালেই শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি।

টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের আট মাইলের মধ্যে বজ্রপাত শনাক্ত হলে খেলা অন্তত ৩০ মিনিটের জন্য স্থগিত রাখতে হয় এবং দর্শকদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়। সেই নিয়ম অনুসারেই খেলা বন্ধ রাখা হয়।

স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় দর্শকদের গ্যালারি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। অবশেষে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় আবার খেলা শুরু হয়।

৫৪তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপে। ইরাকের ডিফেন্ডার আহমেদ কাসেমের ভুল পাস নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন গোলরক্ষক আহমেদ বাসিল। সুযোগ বুঝে উসমান দেম্বেলে বল বাড়িয়ে দিলে সহজেই জালে পাঠান ফ্রান্স অধিনায়ক।

এই গোলের মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে এমবাপের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৬০-এ। এর আগে সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে অলিভিয়ে জিরুকে ছাড়িয়ে যান।

৬৬তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ায় ফ্রান্স। মাইকেল ওলিসের পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোল করেন উসমান দেম্বেলে। এটি ছিল তার তৃতীয় বিশ্বকাপে প্রথম গোল।

পুরো ম্যাচে ফ্রান্স আক্রমণে আধিপত্য দেখালেও ইরাক চারটি শটের একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। অন্যদিকে, ফ্রান্স দ্বিতীয়ার্ধে আরও বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়।

এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম এশিয়ান দল হিসেবে নিজেদের প্রথম পাঁচ ম্যাচের সবকটিতে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করল ইরাক।

দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘আই’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। অন্যদিকে, সমান ম্যাচে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই গ্রুপের তলানিতে রয়েছে ইরাক।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + eleven =