কাতারকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয়, গ্রুপের শীর্ষে কানাডা

সালেক সুফী

কানাডা : কাতার

ফিফা র‍্যাঙ্কিং: কানাডা (৩০), কাতার (৪২)

স্বাগতিক কানাডা দাপুটে ফুটবল উপহার দিয়ে কাতারকে ৬-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ ‘বি’-এর শীর্ষে উঠে এসেছে। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডকে পেছনে ফেলেছে তারা। এর আগে সুইজারল্যান্ড বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলে পরাজিত করেছিল।

ম্যাচজুড়ে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় কানাডা। পরে দুই লাল কার্ড দেখে ৯ জনের দলে পরিণত হওয়া কাতারের পক্ষে ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগই ছিল না।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কানাডা

ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘বি’-এর এই ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। প্রথম ম্যাচে দুই দলই নিজ নিজ প্রতিপক্ষের সঙ্গে ড্র করে এক পয়েন্ট অর্জন করেছিল।

ম্যাচের প্রথম ২৯ মিনিটেই দুই গোল করে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় কানাডা। গোল দুটি করেন কাইল লারিন ও জোনাথন ডেভিড।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কাইল লারিন গোল করেছেন—এমন কোনো ম্যাচে এখন পর্যন্ত হারেনি কানাডা।

প্রথম লাল কার্ডেই বিপর্যস্ত কাতার

ম্যাচের মাঝপথে কানাডিয়ান ফরোয়ার্ড তাজন বুকানানকে বক্সের কাছাকাছি ফাউল করেন কাতারের হোমাম আহমেদ। প্রথমে রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর সেটি ফ্রি-কিকে পরিবর্তন করা হয়।

তবে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় হোমাম আহমেদকে। ফলে ম্যাচের মাত্র আধঘণ্টা পার হতেই দুই গোলে পিছিয়ে থাকা কাতার ১০ জনের দলে পরিণত হয়।

এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিরতির আগেই নিজের দ্বিতীয় গোল করে কানাডাকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন জোনাথন ডেভিড।

দ্বিতীয় লাল কার্ডে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে কাতার

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩তম মিনিটে আরও বড় ধাক্কা খায় কাতার। কানাডার ইসমায়েল কোনেকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন আসিম মাদিবো।

এই ফাউলে গুরুতর চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন কোনে। ৯ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর কাতারের প্রতিরোধ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।

৬৪তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে নাথান সালিবা গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন।

জোনাথন ডেভিডের হ্যাটট্রিকে ইতিহাস

গোলের নেশায় উন্মত্ত কানাডা আক্রমণের গতি কমায়নি। মোহাম্মদ মানাই পঞ্চম গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে ৫-০ করেন।

এরপর যোগ করা সময়ে জোনাথন ডেভিড নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এবং দলকে ৬-০ ব্যবধানের বিশাল জয় এনে দেন।

১৯৬৬ বিশ্বকাপে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্টের পর এই প্রথম কোনো স্বাগতিক দেশের খেলোয়াড় বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করলেন।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে এগিয়ে কানাডা

এই জয়ের ফলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে সুইজারল্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে গেল কানাডা। শেষ ম্যাচে অন্তত ড্র করতে পারলেই শীর্ষস্থান ধরে রাখার সম্ভাবনা থাকবে তাদের।

স্বাগতিক দল হিসেবে কানাডা যদি টুর্নামেন্টের গভীরে যেতে পারে, তাহলে বিশ্বকাপের আকর্ষণ আরও বাড়বে। অন্য দুই স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোও এখন পর্যন্ত ভালো অবস্থানে রয়েছে।

কাতারের জন্য কঠিন বাস্তবতা

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ৯ জন নিয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। তাই কাতারের এই বড় পরাজয়ের প্রতি সহানুভূতি থাকাই স্বাভাবিক। তবে শৃঙ্খলার অভাব যে দলটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা এই ম্যাচ স্পষ্ট করে দিয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 × two =