জন্মদিনের ১৩টি অধ্যায় আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে, ৩৯-এও থামেননি মেসি

জন্মদিন মানেই সাধারণ মানুষের কাছে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব, কেক কাটা আর আনন্দ-উৎসবের দিন। কিন্তু ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসির জন্য দিনটি অনেক সময়ই কেটেছে ভিন্ন বাস্তবতায়। ১৮ বছর বয়স থেকে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে জড়ানোর পর জাতীয় দলের সঙ্গেই তিনি কাটিয়েছেন ১৩টি জন্মদিন।

৩৯তম জন্মদিনেও সেই চিত্র বদলায়নি। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে থাকা আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম প্রধান ভরসা মেসি। তাই ব্যক্তিগত উদযাপনের চেয়ে দলের লক্ষ্যই এখন তার প্রধান অগ্রাধিকার।

মেসির জাতীয় দলের সঙ্গে জন্মদিন উদযাপনের শুরু ২০০৫ সালে। নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ চলাকালে ১৮তম জন্মদিন পালন করেন তিনি। সেই আসরে সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দেন তরুণ মেসি।

এর এক বছর পর, ২০০৬ বিশ্বকাপে জার্মানিতে জাতীয় দলের সঙ্গে কাটে তার জন্মদিন। ২৪ জুন ছিল সতীর্থ হুয়ান রোমান রিকুয়েমেরও জন্মদিন। সেদিন শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেসি।

২০০৭ সালে কোপা আমেরিকার সময়ও জন্মদিন কাটে দলের সঙ্গে। সেদিন ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে গোল করে নিজেকেই জন্মদিনের উপহার দিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই আসরেই প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনার হয়ে কোনো ফাইনালে পরাজয়ের স্বাদ পান।

এরপর কয়েক বছর বিরতি থাকলেও ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে আবারও জাতীয় দলের সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন করেন মেসি। তখন দলের কোচ ছিলেন কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনা। ২০১১ সালে কোপা আমেরিকার সময় জন্মদিন কাটান নিজের দেশেই, তবে জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচির মধ্যেই।

২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপ ছিল মেসির ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেলেও জার্মানির কাছে ফাইনালে হেরে শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ হয় তার।

২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকাও মেসির জন্য ছিল হতাশার। যথাক্রমে চিলি ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত দুই আসরের ফাইনালেই হারে আর্জেন্টিনা।

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে আরেকটি জন্মদিন কাটে জাতীয় দলের সঙ্গে। জন্মদিনের ছয় দিন পর শেষ ষোলোয় ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। এরপর দায়িত্ব ছাড়েন কোচ হোর্হে সাম্পাওলি, আর দলের দায়িত্ব পান লিওনেল স্কালোনি।

২০১৯ সালের কোপা আমেরিকায় স্কালোনির অধীনে নতুন যাত্রা শুরু হয়। যদিও সেমিফাইনালে ব্রাজিলের কাছে হেরে যায় আর্জেন্টিনা, তবু তৃতীয় স্থান অর্জন করে টুর্নামেন্ট শেষ করে দলটি।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে পিছিয়ে যাওয়া ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা মেসির জীবনের অন্যতম স্মরণীয় জন্মদিন উপহার দেয়। কড়া বিধিনিষেধের মধ্যেও সতীর্থরা মাঝরাতে কেক ও ছোট ছোট উপহার নিয়ে তাকে চমকে দেন। সেই টুর্নামেন্টেই দীর্ঘ ২৮ বছরের শিরোপাখরা কাটিয়ে কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা।

২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকার মঞ্চে ৩৭তম জন্মদিন উদযাপন করেন মেসি। সতীর্থদের সঙ্গে হোটেল কক্ষে ছোট পরিসরের সেই উদযাপন ছিল তার জাতীয় দলের ক্যাম্পে কাটানো ১২তম জন্মদিন।

আর ২৪ জুন, ২০২৬—৩৯ বছরে পা রাখলেন ফুটবল ইতিহাসের এই মহাতারকা। মধ্যরাতে আর্জেন্টিনা দলের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে তার অসংখ্য অর্জনের কথা স্মরণ করে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলেছে, বদলেছে সতীর্থ, কোচ, প্রতিযোগিতার মঞ্চও। কিন্তু একটি বিষয় অপরিবর্তিত থেকেছে—জন্মদিন এলেই লিওনেল মেসির ঠিকানা হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ক্যাম্প।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

18 − 11 =