ঢাকা, ৭ আগস্ট ২০২৬: জলবায়ু সাক্ষরতা বাড়ানো, বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প তৈরি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদারের মাধ্যমে বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়ন বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক নীতি সংলাপে বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকেরা বলেন, শুধু কত অর্থ সংগ্রহ করা হলো তা দিয়ে জলবায়ু অর্থায়নের সাফল্য বিচার করা উচিত নয়। অর্থায়ন কতটা সহজলভ্য, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর কাজে লাগছে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
‘Building Bangladesh as a Trillion-Dollar Climate-Resilient Economy: Accelerating Climate Finance Mobilisation Through Strategic and Investment-Ready Climate Project Designs’ শীর্ষক সংলাপটি আয়োজন করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন সেল (ICFC)। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) এতে কারিগরি সহায়তা দেয়।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে প্যারিস চুক্তি ও কুনমিং-মন্ট্রিয়ল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্কের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে তিনি বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলগুলোর প্রক্রিয়া আরও সহজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
ইআরডির জাতিসংঘ উইংয়ের প্রধান এ কে এম সোহেল বলেন, জলবায়ু বাস্তবতা ও অর্থায়নযোগ্যতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন তৈরি করে জলবায়ু সাক্ষরতা। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ব্যবস্থার শর্ত পূরণে সক্ষম প্রকল্প তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।
ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন পেতে দীর্ঘদিন ধরে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এ জন্য জাতীয় মালিকানা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, উদ্ভাবনী অর্থায়ন এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে বলেন, বৈশ্বিক অর্থায়ন আকর্ষণে বড় পরিসরে বাস্তবায়নযোগ্য ও আর্থিকভাবে টেকসই জলবায়ু প্রকল্প তৈরি করতে হবে।
সংলাপে জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রে সবুজ জলবায়ু তহবিল (GCF)-এর মতো আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অর্থ পাওয়ার উপযোগী প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, জলবায়ু বিনিয়োগে ন্যায্য রূপান্তর নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জীবিকা সুরক্ষা এবং নারী, তরুণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।
সংলাপের শেষে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী ও জলবায়ু সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা জলবায়ু শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা, বৈশ্বিক অর্থায়নে প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।