জোড়া গোলে রোনাল্ডোর ইতিহাস, উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিল পর্তুগাল

ঢাকা, ২৪ জুন ২০২৬ — সমালোচনার জবাব দিলেন মাঠেই। ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর জোড়া গোলে উজবেকিস্তানকে ৫-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে ২০২৬ বিশ্বকাপে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পর্তুগাল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি আসরে গোল করার অনন্য কীর্তিও গড়েছেন পর্তুগিজ অধিনায়ক।

হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে রবার্তো মার্টিনেজের দল। এই জয়ে নকআউট পর্বে ওঠার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল পর্তুগাল।

ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই গোলের খাতা খুলে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান ৪১ বছর বয়সী রোনাল্ডো। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার নজির গড়েন তিনি। জোয়াও ক্যানসেলোর ক্রস থেকে প্রথম স্পর্শেই বল জালে পাঠিয়ে নিজের স্বাক্ষর উদযাপনে মেতে ওঠেন পর্তুগিজ মহাতারকা।

১৭ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নুনো মেন্ডেস। এরপর বিরতির ছয় মিনিট আগে নিয়ন্ত্রিত ফিনিশে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন রোনাল্ডো। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ ১০ গোলের মালিক হয়ে কিংবদন্তি ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে যান তিনি।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ও ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচের পর রোনাল্ডোর পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। টানা গোলখরার কারণে তাকে একাদশ থেকে বাদ দেওয়ার দাবিও উঠেছিল। তবে কোচ রবার্তো মার্টিনেজ অধিনায়কের ওপর আস্থা রেখেছিলেন, আর সেই আস্থার প্রতিদান দিলেন রোনাল্ডো।

ম্যাচে উজবেকিস্তান একবার জালে বল পাঠালেও ভিএআরের সহায়তায় জোয়াও ক্যানসেলোর ওপর ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। এরপরও পর্তুগালের আক্রমণের ধার কমেনি। দ্বিতীয়ার্ধে উজবেক গোলরক্ষক আবদুভোহিদ নেমাতভের আত্মঘাতী গোল ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেয়।

শেষ দিকে বদলি খেলোয়াড় রাফায়েল লিয়াও জোরালো শটে পঞ্চম গোলটি করে বড় জয় নিশ্চিত করেন।

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে হতাশাজনক ড্রয়ের পর এই জয় পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযানে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামী শনিবার কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। অন্যদিকে, টানা দুই হারে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে উজবেকিস্তান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 − 6 =