বাংলাদেশের জন্য একটি কম-কার্বন ও পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ গড়তে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও প্লাস্টিক দূষণ রোধে পরিবেশগত বিভিন্ন উদ্যোগের নেতৃত্ব তরুণদের নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসে ‘ইয়ুথ এনডিসি’ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের লো-কার্বন ফিউচার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করা, জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং দৃশ্যমান দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশের অন্যান্য বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের ‘লো এমিশন ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি’ (এলইডিএস) গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন।
‘দৃশ্যমান দূষণ’-কে শহরে নতুন ধরনের উপদ্রব হিসেবে উল্লেখ করে ফরিদুল ইসলাম বলেন, যত্রতত্র পোস্টার লাগানো, অতিরিক্ত আলোকসজ্জা এবং সারা রাত ধরে বাণিজ্যিক বিলবোর্ডের আলো জ্বালিয়ে রাখা পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘পরিবেশেরও তো একটু বিশ্রামের সময় দরকার। গভীর রাতে বাইরে কেউ থাকে না, কিন্তু তখনও রাস্তার আলো আর বড় বিজ্ঞাপনগুলো চলতে থাকে। পরিবেশকে একটু শান্তি দিতে আমরা মধ্যরাতের পর সহজেই এসব অপ্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক আলো বন্ধ করে রাখতে পারি।’
খাদ্যশৃঙ্খল, মাছ ও প্রসাধনসামগ্রীর মাধ্যমে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে প্রবেশের বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। এ সমস্যা মোকাবিলায় যুবনেতাদের নিজ ক্যাম্পাসকে প্লাস্টিকমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে শেখ ফরিদুল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তাকর্মীরা যেন একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করতে না দেন, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই এ দায়িত্ব নিলে মাত্র তিনমাসের মধ্যে ক্যাম্পাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি স্বেচ্ছাসেবী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যদের সঙ্গে সেন্টমার্টিন দ্বীপে একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।তিনি বলেন, ‘আমরা হারিয়ে যাওয়া জমি হয়তো উদ্ধার করতে পারব, কিন্তু সুন্দরবন বা সেন্টমার্টিনের মতো সৃষ্টিকর্তার দেওয়া অমূল্য সম্পদ একবার ধ্বংস হয়ে গেলে কোনোদিন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।’
প্রকৃতি-নির্ভর সমাধানের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তরুণদের উদ্দেশে ফরিদুল ইসলাম বলেন, চিন্তাটা বৈশ্বিক হোক, কিন্তু কাজটা শুরু হোক স্থানীয়ভাবে। প্রযুক্তি ও যোগাযোগের এই যুগে তরুণদের এমন উদ্ভাবনী ধারণা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, যা বিশ্বজুড়েও প্রশংসিত ও কার্যকর হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন।
নিজ ক্যাম্পাস ও সমাজের পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি হতে পারে।