দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা

দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। হতাশাজনক শুরুর পর ঘুরে দাঁড়িয়ে বাফানা বাফানাদের এই অর্জন বিশ্বকাপের অন্যতম অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।

২০১০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলা দক্ষিণ আফ্রিকা টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল স্বাগতিক মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলের পরাজয় দিয়ে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ড্র করে আশা বাঁচিয়ে রাখে তারা। গ্রুপের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে সাত পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

ম্যাচের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়াই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল। অধিনায়ক সন হিউং-মিনকে বেঞ্চে রেখেও বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে এশিয়ার দলটি। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি বাফানা বাফানারা। থালেন্তে এমবাথা ও এভিডেন্স মাগোপার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে বিরতিতে গোলশূন্য সমতায় থাকে দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে সন হিউং-মিন মাঠে নামার পর ম্যাচে গতি বাড়ে। তবে কাঙ্ক্ষিত গোলটি পায় দক্ষিণ আফ্রিকাই। ৬৩তম মিনিটে সেপাং মোরেমির ক্রস থেকে থাপেলো মাসেকো গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।

গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দক্ষিণ কোরিয়া। শেষ দিকে কয়েকটি আক্রমণ শানালেও দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসের দৃঢ়তায় আর গোলের দেখা পায়নি তারা।

ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত কোচ হুগো ব্রুস বলেন, “এটি আমাদের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত। শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষাটা ছিল খুবই কঠিন। পাঁচ বছরের পরিশ্রমের ফল আমরা পেয়েছি।”

এই জয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ ৩২-এ উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামী ২৮ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নকআউট পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে সহ-আয়োজক কানাডা।

অন্যদিকে পরাজিত হলেও দক্ষিণ কোরিয়ার আশা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা এখনও টিকে রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 × one =