পেট্রোবাংলা–পেট্রোনাস সহযোগিতা সম্প্রসারণে একমত বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া

ঢাকা, ২২ জুন ২০২৬: জ্বালানি নিরাপত্তা, এলএনজি সরবরাহ এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি অংশীদারিত্ব জোরদারে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া নতুন করে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ও পরবর্তী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পেট্রোবাংলা ও মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি পেট্রোনাসের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতা, এলএনজি সরবরাহ, আপস্ট্রিম বিনিয়োগ এবং কারিগরি সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়। বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো’ সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি মালয়েশিয়া সফরকালে এই অঙ্গীকার করা হয়। দুই নেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়। উভয় নেতা একমত হন যে, জ্বালানি সহযোগিতা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠবে।

আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল পেট্রোবাংলা ও পেট্রোনাসের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ। দুই প্রতিষ্ঠান এলএনজি সরবরাহ, যৌথ অনুসন্ধান কার্যক্রম, গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়ন এবং সমুদ্রভিত্তিক জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধানে জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

এছাড়া বাংলাদেশের জ্বালানি অবকাঠামো খাতে সম্ভাব্য মালয়েশীয় বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্যাস সঞ্চালন ব্যবস্থা, সংরক্ষণ অবকাঠামো এবং ডাউনস্ট্রিম জ্বালানি সেবা খাতের উন্নয়ন। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংযোজন এবং জ্বালানি রূপান্তর প্রযুক্তিতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এলএনজি ও অফশোর জ্বালানি খাতে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেট্রোনাস বাংলাদেশের বিদ্যমান গ্যাস সংকট মোকাবিলা এবং জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ তার ক্রমবর্ধমান জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক বাণিজ্যিক অবস্থানকে মালয়েশিয়ার জন্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেছে।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি অংশীদারিত্বকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি ‘ভবিষ্যতমুখী কৌশলগত স্তম্ভ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তারা বলেন, পেট্রোবাংলা ও পেট্রোনাসের সহযোগিতা কেবল বাণিজ্যিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জানেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

বৈঠকের শেষে উভয় দেশ আগামী মাসগুলোতে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়া এবং যৌথ জ্বালানি উদ্যোগ বাস্তবায়নে একটি কাঠামোবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ে সম্মত হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

13 − 5 =