প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য: দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে পরিবেশমন্ত্রী

ঢাকা, ১০ জুলাই ২০২৬: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও প্রকৃতি সংরক্ষণকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবকল্যাণকে একই ধারায় এগিয়ে নেওয়াই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

শুক্রবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে ব্র্যাক ব্যাংক ও তরুপল্লব আয়োজিত ‘দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক-২০২৫’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে পদক ও সম্মাননা তুলে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি সংরক্ষণ এখন আর কোনো বিকল্প নয়, এটি জাতীয় দায়িত্ব। সম্মাননাপ্রাপ্তরা তাদের নিষ্ঠা ও উদ্যোগের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাও পরিবেশ সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে এবং সমাজকে অনুপ্রাণিত করতে সক্ষম।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকারের ন্যাশনাল গ্রিন মিশন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পরিবেশমন্ত্রী পদকপ্রাপ্তদের ‘সবুজ ভবিষ্যতের নির্মাতা’ এবং ‘নীরব পরিবেশযোদ্ধা’ আখ্যায়িত করে বলেন, তাদের অবদান পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ বছর ‘দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক-২০২৫’-এ ভূষিত হয়েছেন জীববৈচিত্র্য গবেষণায় অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুজ্জামান (নিসর্গ পুরস্কার), টেকসই কৃষি চর্চায় ‘প্রাণ বৈচিত্র্য খামার’ (জীববৈচিত্র্য পুরস্কার), তৃণমূল পর্যায়ে বৃক্ষরোপণে মো. বাদশা মিয়া (বৃক্ষসখা সম্মাননা), ডিজিটাল মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টিতে উম্মে কুলসুম পপি (সবুজ সারথী সম্মাননা), প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভিদ গণনায় সুমাইয়া মারিয়ম (নবীন নিসর্গী সম্মাননা) এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অধ্যাপক ড. কাজী আহসান হাবিব (পরিবেশ কীর্তিমান সম্মাননা)।

অনুষ্ঠানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, ব্র্যাক ব্যাংক ও তরুপল্লবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, পরিবেশবিদ, গবেষক এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

four × one =