
দেশের মাটিতে চলমান বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ড তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২৬ রানে পরাজিত হয়ে ব্যাকফুটে বাংলাদেশ। আগামীকাল ম্যাচ জয়ে বার্থ হলেই সিরিজ খোয়াবে বাংলাদেশ। শংকা জাগবে ধবল ধোলাইয়ের। পারবে কি বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে?
বিসিবিতে চলছে ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে ভানুমতির খেলা। আর এই আত্মবিনাশী খেলায় পিছিয়ে পড়ছে ক্রিকেট। সবাই চায় ক্ষমতা। কিন্তু ক্রিকেটের স্বার্থে কেউ কিছু করতে চেষ্টা করলেই তাকে বাধা দিয়ে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে।
মাশরাফি, সাকিব, মুশফিক, তামিম, মাহমুদুল্লাহদের বিকাশ সময়ে পূর্ণ শক্তির নিউজিল্যান্ড দলকেও দেশের মাটিতে দুইবার ওডিআই সিরিজে ধবল ধোলাই করেছিল। অথচ সেই নিউজিল্যান্ডদল ৮ জন প্রান্তিক নবীন খেলোয়াড় নিয়ে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে পূর্ণ শক্তির বাংলাদেশ দলকে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল।
ভেবে দেখুন বাংলাদেশ ক্রিকেট এগুচ্ছে নাকি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে? জানি বলবেন এক ম্যাচ দিয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা অনুচিত। তবে বাংলাদেশ দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জিতবে সেই ভরসা পাচ্ছি না।
১৭ এপ্রিল খেলাটির পোস্ট মর্টেম করলে দেখা যাবে বৈরী পরিবেশে পেশাদারি দক্ষতায় নিজেদের সামর্থের সবটুকু নিংড়ে দিয়ে ম্যাচ জিতেছে অতিথি দল। বাংলাদেশ না পেরেছে উইকেট অনুযায়ী সঠিক লেংথ লাইনে বোলিং করে অতিথি দলের স্বল্প অভিজ্ঞতার সুযোগ নিতে। না পেরেছে সঠিক পরিকল্পনায় ব্যাটিং করে সহজ টার্গেট তাড়া করে ম্যাচ জয় করতে।
নিউজিল্যান্ড ইনিংসে হেনরী নিকলস আর ডিন ব্যানক্রফটের বাটিংয়ের সঙ্গে সাইফ হাসান আর তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটিং তুলনা করলেই দুই দলের কৌশলের ব্যাবধান অনুধাবন করা যাবে। অতিথি দলে কিন্তু প্রথম চয়েজ মাত্র তিন জন ছিল। তদুপরি ১৫-১৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা থেকে ৩৫-৩৬ ডিগ্রী উষ্ণ আর্দ্র আবহাওয়ায় মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না।
উইকেটে অসম বাউন্স ছিল বলবো না তাসকিন, নাহিদ, মেরাজ ফায়েদা নিতে পেরেছে। কিছুটা সফল হয়েছে শরিফুল আর রিশাদ। বাগে পেয়েও অতিথি দলকে ২০০ র নিচে গুটিয়ে দিতে পারেনি বাংলাদেশ। এরপর যখন বাংলাদেশ মামুলি টার্গেট তাড়া করতে নামলো কি পরিকল্পনা ছিলো বাটিংয়ে? কেন অকারণ তাড়াহুড়ো করে উইকেট বিসর্জন দিলো তানজিদ তামিম, উইকেট সোজা বলটি কেন ফ্লিক করার চেষ্টায় প্রথম বলেই আউট হলো শান্ত। উইকেটে স্থিতু হয়েও দলকে জয়ী করতে পারলো না সাইফ, লিটন? তাওহীদ হৃদয় কেন নেতৃত্ব দিতে বার্থ হলো দলের জয়ে? এতো কিছু ব্যর্থতার বিশ্লেষণে বাংলাদেশের পরাজয়ে কোন অজুহাত নেই।
কাল করো না হয় মরো ম্যাচে পা পিছলালেই সিরিজ পরাজয়, পারবে কি বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে? বাংলাদেশের হাতে অপশন বেশি নেই। হয়তো শান্তকে বিশ্রাম দিয়ে সৌম্যকে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। প্রথম ম্যাচে শেষ দিকে উইকেট শ্লথ হয়ে পড়েছিল।
বাংলাদেশ তানভীরকে খেলানোর ঝুঁকি নিতে পারে। কিন্তু সেই ক্ষেত্রে মেহেদী মিরাজকে বিশ্রাম দিয়ে লিটন দাসকে নেতৃত্ব দিতে হবে। পারবে কি টিম ম্যানেজমেন্ট ঝুঁকি নিতে? মুস্তাফিজ নিঃসন্দেহে খেলবে নাহিদ রানার পরিবর্তে। মোট কথা কিছু আউট অফ বক্স সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। সিরিজ জয়ের সুযোগ হাত ছাড়া হলে বিপদে পর্বে বাংলাদেশ। পরবর্তী সফরে আসা অস্ট্রেলিয়া বা ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ জয় সহজ হবে না।
তবুও আশায় থাকবো ঘুরে দাঁড়াক বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের শরীরী ভাষাও পজিটিভ ছিল না। জয়ের জন্য দলকে ক্ষুধার্ত মনে হয়নি। তামিম নেতৃত্বের বিসিবির মধুচন্দ্রিমা শুভ হয়নি।