বাংলাদেশ পাকিস্তান টেস্ট সিরিজ প্রথম দিনের খেলা শেষে সন্তোষজনক অবস্থানে বাংলাদেশ

সালেক সুফী

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর মাইলফলক স্থাপনকারী শত রান (১০১*) আর টেস্ট ম্যাচ স্পেশালিস্ট মোমিনুল হকের অনবদ্য (৯১) বাটিং এবং একই সঙ্গে শান্ত -মোমিনুল তৃতীয় উইকেট জুটির ১৭০ রানের সুবাদে ঢাকা টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৩০১/৪ সংগ্রহ করে সন্তোষজনক অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। নিজের ১০১ টেস্ট ম্যাচে ৪৮ রানে অপরাজিত আছে মিস্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহিম, সঙ্গী ৮ রানে অপরাজিত লিটন কুমার দাস। আজ দ্বিতীয় দিন প্রথম সেশন দ্বিতীয় নতুন বলে কঠিন সময় সতর্কতার সঙ্গে খেলে এগিয়ে গেলে ম্যাচ জয়ের অবস্থানে পৌঁছবে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪০০-৪৫০ রান সংগ্রহ করতে পারলে চালকের ভূমিকায় পৌঁছাবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের শক্তিশালী পেস এবং একই সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ পেস -স্পিন আক্রমণ সামাল দিয়ে চতুর্থ ইনিংসে  এড়ানোর জন্য সংগ্রাম করতে হতে পারে  পাকিস্তানকে।

সবুজ ঘাসে আচ্ছদিত বদলে যাওয়া পেসি উইকেটে কাল টস জয় করে বোলিং নিয়ে শুরুতে শাহীন আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাস, হাসান আলী দুর্দান্ত বোলিং করে চেপে ধরেছিলো বাংলাদেশকে। পরিমিত সিম সুইং সামাল দিয়ে ইনিংসের শুভ সূচনা করতে পারেনি মাহমুদুল হাসান জয় (৮) আর সাদমান ইসলাম (১৩)। ১০.১ ওভারে ৩১ রান তুলতেই ঘরে ফিরেছিল উদ্বোধনী জুটি। দেয়ালে পিঠ রাখা অবস্থানে ব্যাটিং করতে এসে শান্ত আর মোমিনুল শুধু প্রতিরোধের দেয়াল তুলে ধরেনি। বরং পাকিস্তানী বোলারদের প্রতি আক্রমণ করে অনবদ্য টেস্ট ঘরনার ব্যাটিং করে দলকে বিপদ মুক্ত করে ইনিংসকে শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করে।  পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে তৃতীয় উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশের দুই ব্যাটার মোমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ২৩ বছর আগে জাভেদ ওমর ও মোহাম্মদ আশরাফুলের গড়া রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন তারা। পাকিস্তানের বোলারদের হতাশায় ডুবিয়ে ২৫৭ বল খেলে ১৭০ রানের জুটি গড়েন মুমিনুল ও শান্ত। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ডের মালিক হন তারা।পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড দখলে ছিল দুই সাবেক ব্যাটার জাভেদ ওমর ও মোহাম্মদ আশরাফুলের। ২০০৩ সালে পেশোয়ার টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৮০ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর জুটি বাঁধেন জাভেদ-আশরাফুল। তৃতীয় উইকেটে ১৩০ রান যোগ করেন দুজনে। জাভেদ ১১৯ ও আশরাফুল ৭৭ রানে আউট হন। ম্যাচটি ৯ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ।পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে যেকোনো উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান-৩১২। ২০১৫ সালে খুলনা টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে উদ্বোধনী জুটিতে ৩১২ রান করেছিলেন তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস।

ইনিংসে তামিম ২০৬ ও ইমরুল ১৫০ রানের ইনিংস খেলেন। তামিম-ইমরুলের রেকর্ড জুটিতে প্রথম ইনিংসে ২৯৬ রানে পিছিয়ে থেকেও টেস্ট ড্র করেছিল বাংলাদেশ।সব মিলিয়ে তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটি ২৪২ রানের। ২০২১ সালে পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টের প্রথম ইনিংসে তৃতীয় উইকেটে ২৪২ রান যোগ করেছিলেন মুমিনুল ও শান্ত। ইনিংসে শান্ত ১৬৩ ও মুমিনুল ১২৭ রান করেন। টেস্ট শেষ পর্যন্ত ড্র হয়।

রেকর্ড সৃষ্টি হয় রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড হয় সেটি সনাতন রীতি। কিন্তু বদলে যাওয়া বাংলাদেশের হার না মানতে চাওয়া পরিবর্তিত মানসিক দৃঢ়তাকে প্রশ্নশা করতেই হবে. কাল যখন শান্ত মোমিনুল শুরু করে তখন উইকেটে কিন্তু আগুন ঝরাচ্ছিলো পাকিস্তান বোলাররা।  সেই পরিস্থিতিতে বীরের মত লড়াই করেছে এই জুটি। শান্তর ১৩০ বলে ১২ চার আর দুই ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি ছিল মুক্ত খচিত। অধিনায়ক হিসাবে ৫ম সতরাং করে শান্ত কিংবদন্তি টেস্ট অধিনায়কদের কাতারে পৌঁছে গেলো। মোমিনুল (২০০ বলে ৯১) খেলেছে আদর্শ টেস্ট ইনিংস। দুর্ভাগ্য নোমান আলীর নিচু হয়ে আর্মার বলটিতে লেগ বিফোর হয়ে ১৪ম শত রান বঞ্চিত হলো লিটল বার্ড কক্সবাজার সাগর পাড়ের সৌরভ।

২৭৬ রানে ৪ উইকেট পরের যাবার পর্যায়ে হাল ধরে বাংলাদেশের ব্যাটিং হৃৎপিন্ড বিশ্বস্ত মুশফিকুর রাহিম। দিনশেসে ৪৮ রানে অপরাজিত মুশফিকের সঙ্গী আছে লিটন কুমার দাস। ৩০১ /৪ অবস্থান থেকে ম্যাচ জয়ী সংগ্রহ অন্তত ৪৫০ পৌঁছতে হলে আজ প্রথম সেশন ন্যূনতম প্রথম ঘন্টায় দ্বিতীয় নতুন বলের একটা কঠিন স্পেল সামাল দিতে হবে।

উইকেটে কাল দিনের শুরুতে পেস বোলাররা যথেষ্ট সহায়তা পেলেও একসময় ব্যাটিং করা সহজ হয়ে যায়। পাকিস্তানী পেসারদের ১৩০-১৩৫ কিলোমিটার গতির বোলিং সামাল দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা দৃঢ়তার সঙ্গেই। এই উইকেট অনেকটা হিট টি ডেক টু বাউন্স প্রকৃতির। সম্ভাবনা আছে দীর্ঘদেহী দ্রুত গতির (১৪৫ + কিলোমিটার ) বোলার নাহিদ রানা আর তার সঙ্গী তাসকিন, এবাদত এই উইকেটে আগুন ঝরাবে।  আর বড়ো টার্গেট দিতে পারলে ক্ষয়িষ্ণু উইকেটে চতুর্থ ইনিংসে তাইজুল -মিরাজ স্পিন সামাল দেয়া পাকিস্তানী ব্যাটসম্যানদের জন্য সহজ হবে না।বাবর আজম নেই।  টপ অর্ডারে আছে দুই নবীন আজান আইওয়াজ আর আব্দুল্লাহ ফজল। ওপেনার ইমামুল হক, অধিনায়ক সান মাসুদ, অভিজ্ঞ মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আগা আর সাউদ শাকিলকে দায়িত্ব নিতে হবে। কাজটি সহজ হবে না.

কিন্তু সেই পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে হলে বাংলাদেশকে আজ ভালো ব্যাটিং করে ম্যাচে চালকের আসনে যেতে হবে। ভরসা মিস্টার ডিপেন্ডেবল আছে উইকেটে। সঙ্গে লিটন কুমার দাস।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

বাংলাদেশ ৩০১/৪ (নাজমুল হোসেন শান্ত ১০১, মোমিনুল হক ৯১, মুশফিকুর রহিম ৪৮* , মোহাম্মদ আব্বাস ১/৫১, শাহীন শাহ আফ্রিদি ১/৬৭, নোমান আলী ১/ ৮০।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 5 =