বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেকের ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনায় ফিফা

বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে স্পেনের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে। তবে মাঠের লড়াই শেষ হলেও টুর্নামেন্টজুড়ে আলোচিত হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে বিতর্ক এখনও থামেনি। খেলোয়াড়দের তীব্র গরম থেকে সুরক্ষা দিতে প্রথমবারের মতো প্রতিটি ম্যাচের দুই অর্ধের মাঝামাঝি তিন মিনিটের বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেক চালু করেছিল ফিফা। এবার সেই নিয়ম ভবিষ্যতে বহাল থাকবে কি না, তা পর্যালোচনা করবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিশ্বকাপ চলাকালেই অনেক কোচ, বিশ্লেষক ও সমর্থক এই বিরতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের অভিযোগ, খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি সম্প্রচার ও বিজ্ঞাপন বিরতির সুযোগ তৈরি করতেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বা ছাদযুক্ত স্টেডিয়ামেও একই নিয়ম কার্যকর থাকায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়।

নতুন নিয়মের অন্যতম সমালোচক ছিলেন ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল। তার মতে, ম্যাচের মাঝখানে দীর্ঘ বিরতি ফুটবলের স্বাভাবিক গতি ও প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতা নষ্ট করে। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও একই ধরনের মত প্রকাশ করে বলেন, এমন বিরতি অনেক সময় ম্যাচের কৌশল ও ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে হাইড্রেশন ব্রেকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উষ্ণ আবহাওয়ায় খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে এই বিরতি কার্যকর ভূমিকা রেখেছে এবং ফুটবলাররা নতুন উদ্যমে খেলা চালিয়ে যেতে পেরেছেন।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার। তিনি স্বীকার করেন, হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে মতভেদ রয়েছে এবং বিশ্বকাপ-পরবর্তী মূল্যায়নে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। তবে তার দাবি, এই বিরতি কোনো ম্যাচের ফল নির্ধারণে প্রভাব ফেলেনি।

ওয়েঙ্গার বলেন, খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাই ফিফার প্রধান বিবেচ্য বিষয়। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সুপারিশের ভিত্তিতেই অনেক ম্যাচে হাইড্রেশন ব্রেক প্রয়োজনীয় ছিল। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তীব্র গরমের কারণে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপও প্রচলিত জুন-জুলাইয়ের পরিবর্তে নভেম্বর-ডিসেম্বরে আয়োজন করা হয়েছিল। একইভাবে এবারের বিশ্বকাপেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের উচ্চ তাপমাত্রা বিবেচনায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ও ছাদযুক্ত স্টেডিয়ামেও কেন একই নিয়ম কার্যকর ছিল—এ প্রশ্নের জবাবে ওয়েঙ্গার বলেন, প্রতিটি স্টেডিয়ামের জন্য আলাদা নিয়ম তৈরি করা বাস্তবসম্মত নয়। তাই পুরো টুর্নামেন্টে একক নীতি অনুসরণ করেছে ফিফা।

বিশ্বকাপ শেষ হলেও হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এই নিয়ম বহাল থাকবে নাকি পরিবর্তন করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে ফিফার পর্যালোচনা ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ম ও ম্যাচ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 × 3 =