বিশ্বকাপ এখন নকআউটের উত্তাপে, শিরোপা দৌড়ে জমে উঠেছে শেষ ষোলোর লড়াই

৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্বে। গ্রুপ পর্ব ও রাউন্ড অব ৩২ মিলিয়ে ৮৮টি ম্যাচ শেষে টুর্নামেন্ট পৌঁছেছে শেষ ষোলোতে। এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচই নকআউট—একটি হার মানেই বিদায়, একটি জয় মানেই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।

৪ থেকে ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে শেষ ষোলোর আটটি ম্যাচ। সূচি অনুযায়ী মুখোমুখি হবে কানাডা–মরক্কো, ফ্রান্স–প্যারাগুয়ে, ব্রাজিল–নরওয়ে, ইংল্যান্ড–মেক্সিকো, স্পেন–পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র–বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা–মিশর এবং সুইজারল্যান্ড–কলম্বিয়া।

শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেওয়া ১৬ দলের মধ্যে ইউরোপের ৭টি, দক্ষিণ আমেরিকার ৪টি, উত্তর আমেরিকার ৩টি এবং আফ্রিকার ২টি দল রয়েছে। তবে এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের কোনো দলই শেষ পর্যন্ত এই পর্বে জায়গা করে নিতে পারেনি। অন্যদিকে স্বাগতিক তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—এখনও শিরোপার লড়াইয়ে টিকে আছে, যা টুর্নামেন্টে বাড়তি উত্তেজনা যোগ করেছে।

এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখানো দলগুলোর মধ্যে অন্যতম ফ্রান্স। কোচ দিদিয়ের দেশঁর দল আক্রমণভাগে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাও শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এগিয়ে চলেছে। তবে রাউন্ড অব ৩২-এ অভিষিক্ত কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের কঠিন জয়ের মাধ্যমে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে, নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। ম্যাচটিতে দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরেছিল কেপ ভার্দে, শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী গোলে বিদায় নিতে হয় আফ্রিকার দলটিকে।

বিশ্বকাপের অন্যতম ইতিবাচক চমক কেপ ভার্দে। প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই দলটি স্পেন, উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দারুণ লড়াই উপহার দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। যদিও তাদের যাত্রা শেষ হয়েছে, তবু এবারের আসরের অন্যতম অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে কেপ ভার্দের পারফরম্যান্স।

অন্যদিকে ব্রাজিল ধীরে ধীরে নিজেদের সেরা ছন্দ ফিরে পেয়েছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নেতৃত্বে আক্রমণভাগ ধারালো হয়ে উঠেছে। ইংল্যান্ড, স্পেন ও পর্তুগালও শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে শিরোপার দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

গোল্ডেন বুটের লড়াইও জমে উঠেছে। লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে রয়েছেন দারুণ ছন্দে। পাশাপাশি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, আর্লিং হলান্ড ও হ্যারি কেইনও গোলদাতাদের তালিকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পারফরম্যান্স বিবেচনায় ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও স্পেন শিরোপার প্রধান দাবিদার। তবে নকআউট পর্বের ফুটবলে এক মুহূর্তের ভুল কিংবা একটি অনুপ্রাণিত পারফরম্যান্স পুরো হিসাব বদলে দিতে পারে। তাই শেষ ষোলো থেকেই শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপের আসল পরীক্ষা, যেখানে প্রতিটি ম্যাচই হতে পারে একটি নতুন ইতিহাসের জন্ম।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five × 2 =