বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তপ্ত ঘটনার তদন্তে নামছে ফিফা, নজরে আর্জেন্টিনার আচরণ

বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে মাঠে ঘটে যাওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তদন্ত করতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে পরাজয়ের পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও দলের কর্মকর্তাদের আচরণ তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

যদিও ফিফা এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি, তবে স্কাই স্পোর্টস নিউজ জানিয়েছে, ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনাবলি পর্যালোচনার জন্য শৃঙ্খলাবিষয়ক প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিদের প্রতিবেদন, ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য বিশ্লেষণ করবে ফিফা।

অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে জয় পেয়ে স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের আনন্দে মেতে ওঠার সময় দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা, বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাই তদন্তের মূল বিষয় বলে জানা গেছে।

তদন্তে মাঠের সংঘর্ষের পাশাপাশি ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানের ঘটনাও গুরুত্ব পাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, স্পেন ট্রফি গ্রহণের সময় আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ইচ্ছাকৃতভাবে বিজয়ী দলের দিকে পিঠ ফিরিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনায় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শেষ বাঁশি বাজার পর তিনি স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও গাভির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন এবং গাভির গলা চেপে ধরার ঘটনায় ম্যাচ কর্মকর্তা তাকে লাল কার্ড দেখান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিকেও মাঠে নেমে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

এছাড়া নাউয়েল মলিনার বিরুদ্ধেও স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রির প্রতি উসকানিমূলক আচরণ এবং আঘাতের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে স্পেনের দানি অলমোর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর অভিযোগে আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হতে পারে। নিকোলাস ওতামেন্দি ও রদ্রির মধ্যে ঘটে যাওয়া উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনাও আলোচনায় থাকলেও সেটি আনুষ্ঠানিক তদন্তের অংশ হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

ফাইনালের নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে আর্জেন্টিনার এনসো ফার্নান্দেস মাঠ ছাড়েন। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর ম্যাচের উত্তেজনা শেষ বাঁশির পর আরও বাড়ে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

মাঠের বাইরেও ফাইনালের রাতে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসে সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-প্রমাণ ও রেফারির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য শাস্তি বা ব্যবস্থা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে বিশ্বকাপ ফাইনালের পরবর্তী ঘটনাগুলো যে এখনও ফুটবল অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, ফিফার এই তদন্ত তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 − two =