বিশ্বকাপ ফাইনালের পর হাতাহাতি: পারেদেসের আচরণে তীব্র সমালোচনা, লাল কার্ড আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে স্পেনের দুই ফুটবলারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ম্যাচ-পরবর্তী এই ঘটনায় তাকে লাল কার্ড দেখান ম্যাচ কর্মকর্তা। পরে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর ধারাভাষ্যকার পিটার ড্রুরি জানান, শেষ বাঁশির পর ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার কারণে পারেদেসকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। পরে টেলিভিশন সম্প্রচার ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে পুরো ঘটনার চিত্র সামনে আসে।

ভিডিওতে দেখা যায়, স্পেনের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাসে মেতে থাকাকালে দুই দলের কয়েকজন ফুটবলারের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। একপর্যায়ে মাঠের মাঝখানে স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও বোর্হা ইগলেসিয়াসের সঙ্গে আর্জেন্টিনার এক খেলোয়াড়ের বচসা থামানোর চেষ্টা করছিলেন রেফারি।

এ সময় দূর থেকে দৌড়ে এসে পারেদেস গার্সিয়াকে ধাক্কা দেন এবং পরে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন। রেফারি তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি গার্সিয়ার গলা চেপে ধরে আবারও ধাক্কা দেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়।

এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্পেনের মিডফিল্ডার গাভি ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে পারেদেস তার মুখে আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেন। গাভি উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে আবারও তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার দৃশ্যও ভিডিওতে ধরা পড়ে। একই সময়ে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনাকেও স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রির সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে জড়াতে দেখা যায়।

ঘটনা নিয়ে দুই দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না এলেও সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষকরা পারেদেসের আচরণের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ওয়েইন রুনি বলেন, আর্জেন্টিনার এমন আচরণ তাকে বিস্মিত করেনি। তার মতে, ম্যাচ হারলেও খেলোয়াড়দের সংযম বজায় রাখা উচিত।

রুনি বলেন, “ফুটবলে হার-জিত থাকবেই। কিন্তু ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষকে সম্মান দেখিয়ে মাঠ ছাড়াই খেলোয়াড়সুলভ আচরণ। আর্জেন্টিনার আচরণ ছিল হতাশাজনক।”

ইংল্যান্ডের আরেক কিংবদন্তি অ্যালান শিয়ারার বলেন, পারেদেসের কর্মকাণ্ডের ফুটবলে কোনো স্থান নেই।

তার ভাষায়, “হার কষ্টের হতে পারে, কিন্তু তাই বলে প্রতিপক্ষের ওপর এভাবে হামলে পড়ার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।”

সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট অবশ্য আর্জেন্টিনা দলের মধ্যে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসির নাম। তার মতে, ম্যাচ শেষে মেসি স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করে ক্রীড়াসুলভ আচরণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

অন্যদিকে সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল বলেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি ম্যাচেই আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তার মতে, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এমন দৃশ্য ফুটবলের ভাবমূর্তির সঙ্গে যায় না।

বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে ঘটে যাওয়া এই অপ্রীতিকর ঘটনা এখন আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। ফিফা এ বিষয়ে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর ফুটবলপ্রেমীদের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eight + nine =