বিশ্লেষণ: অলরাউন্ড আধিপত্যে বাংলাদেশকে টি২০ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করল অস্ট্রেলিয়া

সালেক সুফী

ওয়ানডে সিরিজে বিজয়ের পর টি–টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো ছাপ রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজের সব কয়টিতেই জিতে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া প্রমাণ করেছে দুই দলের মধ্যকার ব্যবধান এখনো বেশ বড়। প্রথম দুই ম্যাচেই সিরিজ হাতছাড়া করার পর শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের কাছ থেকে প্রতিরোধের প্রত্যাশা ছিল। তবে বাস্তবে সেটিও হয়নি। ব্যাটিং ব্যর্থতায় আবারও বড় ব্যবধানে হেরে ৩–০ ব্যবধানে সিরিজ হোয়াইটওয়াশ হয় স্বাগতিকরা।

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। শুরু থেকেই ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে। ওপেনার তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন এবং শামীম হোসেন কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। মাত্র ৫ ওভারে ১১ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ, আর ৮.৩ ওভারের মধ্যে স্কোর দাঁড়ায় ৩৬/৬—যা কার্যত ইনিংসকে অচল করে দেয়।

এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে ইনিংস টেনে নেন তাওহীদ হৃদয়। ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে চাপের মধ্যেও তিনি খেলেন ৬১ রানের অনবদ্য ইনিংস, যা দলের জন্য একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। তার সঙ্গে শেষ দিকে রিশাদ হোসেন (১৬) এবং তাসকিন আহমেদ সামান্য অবদান রাখলে কোনোভাবে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১০৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে স্পেন্সার জনসন ও নাথান এলিস ছিলেন সবচেয়ে কার্যকর। তারা বাংলাদেশি ব্যাটিং লাইনআপে শুরুতেই ভাঙন ধরান, আর অ্যাডাম জাম্পা মিডল ওভারে চাপ বাড়িয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেন।

মাত্র ১১০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল অস্ট্রেলিয়া। অধিনায়ক মিচেল মার্শ যেন ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন। মাত্র ২৮ বলে ৬০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি ম্যাচকে একপেশে করে দেন। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৪টি ছক্কা।

নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তা যথেষ্ট ছিল না। ১১তম ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে ১১২/৩ স্কোরে পৌঁছে সহজ জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড অপরাজিত থেকে জয় সম্পন্ন করেন।

এই জয়ের ফলে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ ৩–০ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় এবং বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করে। ম্যাচ সেরা হন মিচেল মার্শ, আর সিরিজ সেরা নির্বাচিত হন ম্যাট রেনশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ১০৯/৮ (২০ ওভার) — তাওহীদ হৃদয় ৬১*, রিশাদ ১৬; জনসন ২/৬, এলিস ২/২১, জাম্পা ২/২২

অস্ট্রেলিয়া: ১১২/৩ (১১ ওভার) — মার্শ ৬০, ইংলিশ ১৭; নাসুম ১/১০, রিশাদ ১/২২

ফলাফল: অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: অস্ট্রেলিয়া ৩–০ ব্যবধানে জয়ী

ম্যাচ সেরা: মিচেল মার্শ

সিরিজ সেরা: ম্যাট রেনশ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

18 + eleven =