
নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের এক অনন্য প্রদর্শনীতে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও শেষ সাত মিনিটে দুটি গোল করে জয় ছিনিয়ে নেয় লিওনেল মেসির দল।
ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। শিরোপা জিততে পারলে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তিতে নাম লেখাবে আলবিসেলেস্তেরা।
প্রথমার্ধে দুই দলই রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলায় গোলের দেখা মেলেনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমে ওঠে। বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও ৫৫ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে গোল করে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ডান প্রান্ত থেকে মরগান রজার্সের নিখুঁত ক্রসে অ্যান্থনি গর্ডন জোরালো শটে জালে বল পাঠিয়ে ইংলিশদের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

গোল হজমের পর আর্জেন্টিনা আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়। একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণকে চাপে রাখে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। অবশেষে ৮৫ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক শটে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ।
সমতায় ফেরার পরও থেমে থাকেনি আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে লাউতারো মার্টিনেজ হেডে জয়সূচক গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে মেতে ওঠে আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা।
ম্যাচজুড়ে ইংল্যান্ডের মূল পরিকল্পনা ছিল মেসিকে নিষ্ক্রিয় রাখা। কিন্তু গোল না করেও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সমতাসূচক গোলের আক্রমণ গড়ে তোলার পাশাপাশি জয়সূচক গোলেও অ্যাসিস্ট করে আবারও নিজের প্রভাবের প্রমাণ দেন তিনি।

পুরো টুর্নামেন্টে কঠিন প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে লড়াই করেই ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে, মিশর ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার পথে আর মাত্র এক ধাপ দূরে রয়েছে তারা। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে গোল আদায়ের সক্ষমতা এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অন্যতম বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, স্পেনও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। ফলে বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। বিশ্ব ফুটবল এখন অপেক্ষায় দুই প্রজন্মের দুই তারকা—লিওনেল মেসি ও স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামালের—মহারণ দেখার। এই ফাইনাল শুধু শিরোপার লড়াই নয়, বিশ্ব ফুটবলের দুটি যুগের প্রতীকী মুখোমুখিও হতে যাচ্ছে।