বেলজিয়ামের দাপটে বিদায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, কোয়ার্টার ফাইনালে রেড ডেভিলস

স্বাগতিক হওয়ার সুবিধা কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপে অনেক দূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে শেষ ষোলোতেই সেই স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে ইউরোপের শক্তিশালী দল বেলজিয়াম। সিয়াটলে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৪-১ গোলের দাপুটে জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বেলজিয়ানরা।

ম্যাচজুড়ে বলের দখল, আক্রমণ এবং কৌশলগত ফুটবলে স্পষ্ট আধিপত্য দেখায় বেলজিয়াম। শুরু থেকেই চাপে থাকা যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেনি। ফলে একসময় ম্যাচ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সহজ জয় নিশ্চিত করে ইউরোপের দলটি।

বেলজিয়ামের জয়ের নায়ক ছিলেন চার্লস ডি কেটেলার। ম্যাচের ৯ মিনিটেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর ৩৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান বাড়ান এই ফরোয়ার্ড।

৩১ মিনিটে মালিক টিলম্যানের দারুণ এক ফ্রি-কিক প্রতিপক্ষের ডিফ্লেকশনে জালে জড়িয়ে গেলে সাময়িকভাবে ১-১ সমতায় ফেরে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি দুই মিনিটও।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজের বড় ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে হান্স ভানাকেন সহজেই বেলজিয়ামের তৃতীয় গোল করেন। যোগ করা সময়ে রোমেলু লুকাকু চতুর্থ গোলটি করে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায় নিশ্চিত করেন।

এই হারের মধ্য দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের তিন স্বাগতিক দেশই নকআউট পর্ব থেকে বিদায় নিল। এর আগে কানাডা ৩-০ গোলে মরক্কোর কাছে এবং মেক্সিকো ৩-২ গোলে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়।

সিয়াটলের গ্যালারিতে হাজারো সমর্থকের উপস্থিতিতে দারুণ আবহ তৈরি হলেও মাঠের খেলায় বেলজিয়ামের শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিকল্পিত ফুটবলের সামনে অসহায় দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে।

ম্যাচের আগে ফরোয়ার্ড ফোলারাইন বালোগনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত নিয়ে বিতর্ক চললেও সেই আলোচনার কোনো প্রভাব মাঠের খেলায় দেখা যায়নি। বরং বেলজিয়ামের সংগঠিত আক্রমণ ও কার্যকর ফিনিশিংয়ের সামনে স্বাগতিকরা বড় ব্যবধানে পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়।

শেষ আটে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ হবে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা স্পেন। দুই ইউরোপীয় শক্তির এই লড়াইকে কোয়ার্টার ফাইনালের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

thirteen − 1 =