ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বে আজ মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও আফ্রিকার প্রতিনিধি মিশর। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শেষ ষোলোর এই লড়াইয়ে একদিকে রয়েছে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে থাকা আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠা মিশর।

লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে। তিনটি জয় ও একটি ড্র নিয়ে তারা শেষ ষোলোতে এসেছে। দলের সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক লিওনেল মেসি, যিনি চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে সাতটি গোল করে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। তার সঙ্গে লাউতারো মার্টিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো তারকারা আর্জেন্টিনাকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।

অন্যদিকে মিশর এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছে। কোচ হোসাম হাসানের অধীনে দলটি একটি জয় ও তিনটি ড্র নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। দলের প্রধান ভরসা অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ। লিভারপুলের সাবেক এই তারকার পাশাপাশি ওমর মারমুশও আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। শক্ত রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণই মিশরের মূল কৌশল হতে পারে।
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনা স্পষ্টভাবে এগিয়ে। শেষ পাঁচ ম্যাচে তারা চারটি জয় ও একটি ড্র করেছে। অন্যদিকে মিশরের শেষ পাঁচ ম্যাচে রয়েছে একটি জয়, তিনটি ড্র ও একটি হার। গ্রুপ পর্বে মিশর প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।

কৌশলগত দিক থেকে ম্যাচটির অন্যতম আকর্ষণ হবে মোহাম্মদ সালাহ ও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের লড়াই। সালাহর গতি ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্য মিশরের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলেও ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজের নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার রক্ষণও বেশ সংগঠিত। অন্যদিকে বলের দখল ধরে রেখে মেসিকে ঘিরেই আক্রমণ সাজাবে আর্জেন্টিনা।

দুই দলই এই ম্যাচে পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামতে পারে। এখন পর্যন্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের ইনজুরি বা নিষেধাজ্ঞার খবর নেই।
কাগজে-কলমে এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় আর্জেন্টিনাই এই ম্যাচের স্পষ্ট ফেবারিট। তবে নকআউট পর্বে একটি মুহূর্তই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। মিশর রক্ষণে দৃঢ় থেকে সালাহকে কাজে লাগাতে পারলে চমক দেখানোর সুযোগ থাকবে। আর আর্জেন্টিনা চাইবে নিজেদের অভিজ্ঞতা, আক্রমণভাগের ধার এবং মেসির জাদুতে জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিতে।