সহস্রতম বিশ্বকাপ ম্যাচে জাপানের দাপুটে জয়, বিদায় তিউনিসিয়ার

সালেক সুফী

জাপান ৪  তিউনিসিয়া ০

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সহস্রতম ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখল এশিয়ার শক্তিশালী দল জাপান। মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে দৃষ্টিনন্দন, ছন্দময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়ে তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ‘সামুরাই ব্লু’রা। এই জয়ে এফ গ্রুপ থেকে জাপানের নকআউট পর্বে ওঠা প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে, অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তিউনিসিয়াকে।

জাপানের হয়ে দুটি গোল করেছেন আয়াসে উয়েদা। একটি করে গোল করেছেন দাইচি কামাদা ও জুনিয়া ইতো। দুই ম্যাচ শেষে ৬ গোল করে এবং মাত্র ২ গোল হজম করে ৪ পয়েন্ট নিয়ে জাপান রয়েছে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষে আছে নেদারল্যান্ডস, যারা দুই ম্যাচে ৭ গোল করেছে এবং ২ গোল হজম করেছে।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জাপানের প্রতিপক্ষ সুইডেন। সেই ম্যাচের ফলাফলের ওপর গ্রুপের চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারিত হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নেদারল্যান্ডস, জাপান ও সুইডেন—এই তিন দলেরই দ্বিতীয় পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এ ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে মেক্সিকো-ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ১৩ দল নিয়ে শুরু হওয়া সেই প্রতিযোগিতায় এখন অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দেশ। আর সেই দীর্ঘ যাত্রার সহস্রতম ম্যাচে জাপানের এই বড় জয় বিশ্বকাপ ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।

শুরু থেকেই জাপান ছিল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। সংগঠিত আক্রমণ, দ্রুত পাস বিনিময় এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবলের মাধ্যমে তারা তিউনিসিয়াকে চাপে রাখে।

ম্যাচের মাত্র চতুর্থ মিনিটেই দাইচি কামাদার গোলে এগিয়ে যায় জাপান। শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই তিউনিসিয়া আরও চাপে পড়ে। নবম মিনিটে জাপান দ্বিতীয় গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু তিউনিসিয়ার গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় সে যাত্রায় রক্ষা পায় আফ্রিকার দলটি।

৩১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আয়াসে উয়েদা। মাঝমাঠের কাছ থেকে বল পেয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর কোনাকুনি শট ডিফেন্ডার মন্তাসার তালবির পায়ের ফাঁক গলে জালে জড়িয়ে যায়।

প্রথমার্ধে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জাপান।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার কমায়নি এশিয়ার প্রতিনিধিরা। ম্যাচের ৬৯তম মিনিটে জুনিয়া ইতো দলের তৃতীয় গোলটি করেন। এরপর ৮৩তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোল করে জয়কে আরও উজ্জ্বল করে তোলেন আয়াসে উয়েদা।

৪-০ গোলের এই জয় শুধু স্কোরলাইনের দিক থেকে নয়, পারফরম্যান্সের দিক থেকেও জাপানের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে। পুরো ম্যাচজুড়ে তারা তিউনিসিয়াকে কার্যত কোনো সুযোগই দেয়নি।

প্রথম রাউন্ড এবং দ্বিতীয় রাউন্ডের কয়েকটি ম্যাচের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, নেদারল্যান্ডস ও জাপান এ টুর্নামেন্টে আরও অনেক দূর যাওয়ার সামর্থ্য রাখে। বিশেষ করে জাপানের সংগঠিত ফুটবল, শারীরিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত পরিপক্বতা তাদেরকে অন্যতম সম্ভাবনাময় দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এশিয়ার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য তাই নতুন করে স্বপ্ন দেখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এবার হয়তো বিশ্বমঞ্চে জাপান আরও বড় কোনো সাফল্যের গল্প লিখতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

17 + 9 =