বাংলাদেশের নারীরা লড়াই করে হারলো চ্যাম্পিয়ন চীনের কাছে

কাল ছিল বাংলাদেশের অদম্য সাহসী নারী ফুটবল দলের এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়নশিপে ঐতিহাসিক অভিষেক। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে এশিয়া কাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শক্তিশালী চীনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ চোখে চোখ রেখে লড়াই করেও প্রথমার্ধের শেষ দিকে অসতর্কতার কারণে ৩ মিনিটে ২ গোল খেয়ে ০-২ পরাজিত হয়।

প্রথমার্ধে ১৪ মিনিটের বাংলাদেশের মেসি ঋতুপর্ণা চাকমার বাম পায়ের গোলমুখী একটি দুর্দান্ত শট চীনের প্রাচীর হয়ে দীর্ঘদেহী গোল রক্ষক রক্ষা না করলে হতে পারতো টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোল। বাংলাদেশ একটি পেনাল্টি পেতে পারতো দ্বিতীয়ার্ধে। একটি কর্নার কিক থেকে গোল মুখে সৃষ্ট জটলায় একটি ফাউল হয়েছিল। ভিডিও এসিস্টেড রিভিউ (ভার ) সেটি বাতিল করে। অবশ্য চীনের একটি গোল এভাবে বাতিল হয়েছিল।

কোচ বাটলার কাল শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু ও নবীরন খাতুন ৫ জন ডিফেন্ডার নিয়ে ৫-৪-১ ফরমেশনে শুরু করেছিল। গোল কিপার হিসাবে সবাইকে বিস্মিত করে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল রূপনা চাকমার স্থানে মিলি আক্তারকে। বলা বাহুল্য বাটলারের কৌশল দারুন কাজে দিয়েছে। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতি-আক্রমণ গড়ার দায়িত্ব ছিল  নির্ভরযোগ্য চার ফুটবলারের ওপর। মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দা, ঋতুপর্ণা চাকমা ও উমেলাহ মারমা—এই চারজন  রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করেছে। একক স্ট্রাইকার হিসেবে চীনের লম্বা ও শক্তিশালী ডিফেন্ডারদের বিপক্ষে লড়াই করেছে শাসসুন্নাহার জুনিয়র।

চীনের আগ্রাসী ফরোয়ার্ডরা বাংলাদেশের রক্ষণ ভাগে দারুন চাপ সৃষ্টি করেও খুব একটা সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি। গোল বারের নিচে মিলিও ছিল দুর্দান্ত। বল পজেশনে পিছিয়ে থাকলেও মধ্য মাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে বাংলাদেশেও পরিকল্পিত আক্রমণ করেছে। বিশেষ করে ঋতুপর্ণা চাকমার গতি এবং জাদুকরি বাম পায়ের দর্শনীয় দুটি শট চীনের রক্ষণ ভাগে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। প্রথমার্ধের ১৪ মিনিটে চীনের দীর্ঘদেহি গোলকিপার চেন চেন অসামান্য দক্ষতায় প্রতিহত না করলে হতে পারতো টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোল।

প্রথমার্ধের অন্তিম সময়ে সারাক্ষণ শিকারি বেড়ালের মত গোলের নেশায় থাকা চীনের কুশলী ফরোয়ার্ডরা ৩ মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে খেলার ভাগ্য গড়ে দেয় (২-০)। লাগসই কৌশলে টাইট ডিফেন্স আর দ্রুত প্রতি আক্রমণ করে বাংলাদেশ কাল রীতিমত ঘাম ঝরিয়েছে এশিয়া চ্যাম্পিয়ন্স চীন দলের। অভিষেকে উজ্জ্বল বাংলাদেশের এই দুর্দান্ত পারফরমেন্স মাঠে সমবেত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মন জয় করেছে।

৬ তারিখে সিডনিতে শক্তিশালী উত্তর কোরিয়া আর ৯ তারিখে পার্থে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ দুটি বাংলাদেশ ভালো খেলবে স্বপ্ন দেখা যেতেই পারে। কাল সুইডেন প্রবাসী আনিকাকে শেষ দিকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আশা করি পরের ম্যাচ দুটিতে বেশি সময় খেলার সুযোগ পেয়ে নিজেকে আরো মেলে ধরতে পারবে।

কাল মিলি আক্তারকে গোল পোস্টে খেলানো ছিল বাটলারের মাস্টার স্ট্রোক। আমাকে বাংলাদেশ থেকে অনেক ফুটবল অনুরাগী জানিয়েছে এশিয়া কাপে বাংলাদেশের  মেয়েদের ঐতিহাসিক অভিষেক ম্যাচটি নিয়ে মিডিয়া একটু নিস্পৃহ আছে। বিটিভি ম্যাচটি সরাসরি দেখাতে পারতো।

আমি আত্মপ্রত্যয়ী বাংলাদেশের মেয়েদের লড়াকু ফুটবলের জন্য টুপি খোলা অভিনন্দন জানাচ্ছি। গুনে মানে, অভিজ্ঞতায় যোজন যোজন এগিয়ে থাকা শক্তিশালী চীনের বিরুদ্ধে লড়াই করে হেরে যাওয়া অনেক গৌরবের। আমি মনে করি বাংলাদেশ অভিষেক ম্যাচে ভালো ফুটবল উপহার দিয়ে ফুটবল বিশ্বকে বাংলাদেশের নারীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সংকেত দিয়েছে।

বাংলাদেশের একাদশ

গোলরক্ষক: মিলি আক্তার।

ডিফেন্ডার: শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু ও নবীরন খাতুন।

মিডফিল্ডার: মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা, ঋতুপর্ণা চাকমা, উমেলাহ মারমা।

স্ট্রাইকার: শামসুন্নাহার জুনিয়র।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

three × two =