ইরানের সঙ্গে চুক্তির অগ্রগতি হওয়ায় ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান স্থগিত করলেন ট্রাম্প

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ মাত্র এক দিন পরই স্থগিত করেছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। এএফপি। খবর বাসস

এই অভিযানকে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে অভিহিত করা হয়েছিল, যা গত সোমবার শুরু হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল উপসাগরে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সহজ করা।

মঙ্গলবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশালে লেখেন, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি এই অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন।

তিনি বলেন, এর ফলে তেহরানের সঙ্গে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তির’ দিকে বড় অগ্রগতি হয়েছে।

ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘আমরা পারস্পরিকভাবে একমত হয়েছি যে— অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকলেও, প্রজেক্ট ফ্রিডম স্বল্প সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হবে।’

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেখা হবে যে চুক্তিটি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষর করা সম্ভব কি না।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় রেখেছে, যাতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শেষ করতে তেহরানকে চুক্তিতে বাধ্য করা যায়।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছিল।

যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা সাতটি ইরানি নৌযান ধ্বংস করেছে। কয়েকটি বেসামরিক জাহাজে হামলা হয়েছে, যা ইরানের দিক থেকে হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে আক্রমণাত্মক অভিযান শেষ হয়েছে।

তিনি বলেন, এটি ছিল প্রতিরক্ষামূলক অভিযান এবং প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

প্রায় এক মাস ধরে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে কংগ্রেসে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গেই রুবিওর মন্তব্যের মিল পাওয়া যায়।

সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, ‘আমরা সেই পর্যায় শেষ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালীর সংঘর্ষ মূল যুদ্ধের অংশ ছিল না এবং এটি প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ ছিল।

রুবিও জানান, ‘আমরা গুলি চালাই না, যদি না আমাদের আগে ওপর হামলা হয়।’

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতারা নিহত হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে ইরান সরকার এতে ভেঙে পড়েনি। এরপর তারা অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

ট্রাম্প গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, যা পরবর্তীতে আলোচনা অচল থাকলেও তিনি বাড়িয়ে দেন।

রুবিও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং ইরানের অর্থনীতি ‘গুরুতর সংকটে’ পড়েছে।

তবে ট্রাম্প এখনো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চান বলে জানান রুবিও।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

three + two =