যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে।
শুক্রবার (২৯ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমাদের অসাধারণ ও নজিরবিহীন নৌ অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজগুলো এখন ঘরে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে। আমার পক্ষ থেকে তাদের স্ত্রী, স্বামী, বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানাবেন।’
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের ওপর আলাদা অবরোধ আরোপ করেছিল। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যায়।
ট্রাম্প তার পোস্টে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার কয়েকটি শর্তও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—
- ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এ মর্মে অঙ্গীকার
- হরমুজ প্রণালি উভয় দিকের জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং কোনো ধরনের টোল না নেওয়া
- প্রণালিতে পেতে রাখা অবশিষ্ট মাইন অপসারণ
- ভূগর্ভে চাপা থাকা ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার ও ধ্বংস করা (ট্রাম্পের দাবি অনুসারে)
ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধও তুলে নেবে।
তিনি দাবি করেন, প্রায় ১১ মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমানের হামলায় পাহাড়ধসের নিচে চাপা পড়ে থাকা ইরানের সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান যুক্তরাষ্ট্র উদ্ধার করবে। এ কাজে ইরান ও আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘অর্থ লেনদেন আপাতত বন্ধ থাকবে। অন্যান্য কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে। আমি এখন সিচুয়েশন রুমে বৈঠকে যাচ্ছি, সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার বিষয়ে এখনো ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।