সালেক সুফী
যুক্তরাষ্ট্র ২ : অস্ট্রেলিয়া ০
ফিফা র্যাঙ্কিং: যুক্তরাষ্ট্র ১৫, অস্ট্রেলিয়া ২৭
কানাডা ও মেক্সিকোর মতো স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রও বিশ্বকাপে নিজেদের দুর্দান্ত অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। সিয়াটলে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে তারা।
প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারানোর পর এবার আরও কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের পর এই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব দেখাল তারা।
অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে তুরস্ককে ২-০ গোলে হারানো অস্ট্রেলিয়া এই পরাজয়ে গ্রুপসেরা হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার সুযোগ হারিয়েছে। তবে তাদের সম্ভাবনা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। শেষ ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয় পেলে নিশ্চিতভাবেই পরের পর্বে উঠবে সকারুজরা। এমনকি ড্র করলেও সুযোগ টিকে থাকবে।

শুরু থেকেই ছন্দে ছিল যুক্তরাষ্ট্র
শীতের সকালে অস্ট্রেলিয়ার লোগান সিটি থেকে ম্যাচটি দেখার সময় অস্ট্রেলিয়া সমর্থকদের জন্য হতাশাই অপেক্ষা করছিল। প্রথমার্ধে দলটিকে নিষ্প্রভ ও ছন্নছাড়া মনে হয়েছে। অন্যদিকে, শুরু থেকেই গোছানো, গতিময় এবং পরিকল্পিত ফুটবল খেলেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র।
ম্যাচের ১১ মিনিটে দুর্ভাগ্যজনক আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ছয় গজের বক্সে ফোলারিন বালোগুনের বাড়ানো পাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন ক্যামেরন বার্জেস। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।
ফ্রিম্যানের গোলে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ
প্রথম গোলের পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে যুক্তরাষ্ট্র। একটি ফ্রি-কিক থেকে বল প্রথমে যায় সের্হেনিও দেস্তের কাছে। বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া তার শট প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে উপরে উঠে গেলে অ্যালেক্স ফ্রিম্যান হেড করে বল জালে পাঠান।
গোলটি নিয়ে প্রথমে কিছুটা সংশয় থাকলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) নিশ্চিত করে যে ফ্রিম্যান অনসাইড ছিলেন। ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে যুক্তরাষ্ট্র।
দ্বিতীয়ার্ধে জেগেও ফিরতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া
দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের গুছিয়ে নেয় অস্ট্রেলিয়া। আক্রমণে কিছুটা ধারও দেখা যায়। তবে গোলের সুযোগ তৈরি করেও ব্যবধান কমানো কিংবা সমতায় ফেরার মতো কার্যকর ফুটবল খেলতে পারেনি তারা।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের রক্ষণভাগ শক্ত রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
সহ-আয়োজক মেক্সিকোর পর যুক্তরাষ্ট্রও জায়গা করে নিল বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ। স্বাগতিক সমর্থকদের আনন্দে তাই ছিল বাড়তি উচ্ছ্বাস।

এখনও সুযোগ আছে অস্ট্রেলিয়ার
এই পরাজয় অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় ধাক্কা হলেও তাদের বিশ্বকাপ অভিযান এখনই শেষ হয়ে যায়নি। শেষ ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ইতিবাচক ফল করতে পারলেই দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
তবে এই ম্যাচ স্পষ্ট করে দিয়েছে, বড় আসরে প্রথমার্ধে ভুলের খেসারত অনেক সময় পুরো ম্যাচজুড়েই দিতে হয়। বিশেষ করে আত্মঘাতী গোল ও মন্থর শুরুর মূল্য দিতে হয়েছে সকারুজদের।
আত্মবিশ্বাসী যুক্তরাষ্ট্র হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ
নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধা কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী একটি দল। গতি, শৃঙ্খলা এবং আক্রমণভাগের কার্যকারিতা তাদের অন্যতম শক্তি হয়ে উঠেছে।
যদি তারা এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে, তাহলে এবারের বিশ্বকাপে অনেক দূর যাওয়ার সামর্থ্য তাদের রয়েছে। টানা দুই জয়ে সেই বার্তাই স্পষ্টভাবে দিয়েছে স্বাগতিকরা।