হাইতিকে উড়িয়ে ছন্দে ফিরল ব্রাজিল, গ্রুপের শীর্ষে সাম্বা বাহিনী

সালেক সূফী

ব্রাজিল : হাইতি

ফিফা ্যাঙ্কিং: ব্রাজিল , হাইতি ৮৫

বড় জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল ব্রাজিল। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে ব্রাজিল। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। একই দিনে গ্রুপের অন্য ম্যাচে মরক্কো স্কটল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারালেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় তারা রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।

ব্রাজিল পুরোপুরি তাদের পুরনো সাম্বা ছন্দে ফিরেছে—এ কথা হয়তো এখনই বলা যাবে না। তবে এই জয় দলটিকে যে নতুন আত্মবিশ্বাস এনে দেবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

ফেভারিটের তকমা হারালেও ব্রাজিল এখনও ভয়ংকর

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেই ব্রাজিলকে শিরোপার প্রধান দাবিদারদের তালিকায় রাখেননি। ষাট, সত্তর, আশি ও নব্বইয়ের দশকের শিল্পিত ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের সেই ব্রাজিল যেন অনেকটাই হারিয়ে গেছে। তবুও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল ও ঐতিহ্যবাহী দলটিকে কখনোই হিসাবের বাইরে রাখা যায় না।

মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বিবর্ণ পারফরম্যান্সের পর সমালোচনার মুখে পড়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু হাইতির বিপক্ষে যেভাবে তারা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে, তাতে প্রতিপক্ষদের জন্য সতর্কবার্তা স্পষ্ট। প্রথমার্ধে তিন গোল করার পর দ্বিতীয়ার্ধে আর গোল না পেলেও ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্রাজিলের হাতেই।

এখন গোল ব্যবধানে গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিল। শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিলের অনন্যতা

বিশ্ব ফুটবলের চিরন্তন ফেভারিট ব্রাজিলই একমাত্র দল যারা প্রতিটি বিশ্বকাপের মূল পর্বে অংশ নিয়েছে। ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জিতে তারা অর্জন করেছে পাঁচটি তারকা। শিল্পিত ও দর্শনীয় ফুটবল খেলে কোটি কোটি সমর্থকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে দলটি।

তবে ২০০৬ সালের পর থেকে টানা ষষ্ঠবারের মতো ‘হেক্সা’ মিশনে নামলেও সেই স্বর্ণযুগের ফুটবল আর দেখা যায়নি। মাঠে বসে ম্যাচ দেখছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো ও রোনালদিনহো। তাদের চোখে হয়তো ভেসে উঠছিল ব্রাজিলের গৌরবময় অতীত।

কুনিয়াভিনিসিয়ুসের ঝলকে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিষ্পত্তি

শক্তি ও সামর্থ্যে অনেক পিছিয়ে থাকা হাইতির বিপক্ষে বড় জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবার সুযোগ ছিল না ব্রাজিলের। কোচ কার্লো আনচেলত্তি একাদশে দুটি পরিবর্তন এনে দানিলো ও মাতেউস কুনিয়াকে সুযোগ দেন।

শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে ব্রাজিল। ১২ মিনিটে রাফিনিয়ার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ২২ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে ফাঁকা পোস্টে বল জড়াতে ব্যর্থ হন তিনি।

তবে এক মিনিট পরই এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুসের শট গোলরক্ষক জনি প্লাসিদ ঠেকালেও ফিরতি বলে জাল খুঁজে নেন মাতেউস কুনিয়া। ২৩ মিনিটে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।

৩৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কুনিয়া। মাঝমাঠ থেকে ভিনিসিয়ুসের দারুণ থ্রু পাস পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ব্রাজিলের তৃতীয় গোলটি করেন। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় সাম্বা বাহিনী।

দ্বিতীয়ার্ধে গতি কমলেও নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্রাজিলের

প্রথমার্ধের তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ধীরগতির ফুটবল খেলেছে ব্রাজিল। হাইতিও কয়েকবার পাল্টা আক্রমণে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। ৬৪ মিনিটে জোড়া গোল করা মাতেউস কুনিয়া ও লুকাস পাকেতাকে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো হয় এনদ্রিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে।

ভিনিসিয়ুস ও মার্তিনেল্লির বোঝাপড়ায় গড়ে ওঠা এক আক্রমণ থেকে মার্তিনেল্লির জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ৭৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা এনদ্রিক বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেই গোলও বাতিল হয়।

ম্যাচে ব্রাজিলের দুটি গোল প্রযুক্তির সহায়তায় অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছে। তবুও জয় নিয়ে কোনো শঙ্কায় পড়তে হয়নি তাদের।

দ্বিতীয় রাউন্ডের লড়াই জমে উঠেছে

গ্রুপ ‘সি’ থেকে এখনো ব্রাজিল, মরক্কো ও স্কটল্যান্ড—তিন দলেরই দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে হাইতির বিপক্ষে দাপুটে জয় ব্রাজিলকে এনে দিয়েছে বাড়তি সুবিধা এবং গোল ব্যবধানের কারণে শীর্ষস্থান।

বিশ্বকাপের মঞ্চে দীর্ঘদিন পর কিছুটা হলেও নিজেদের চেনা রূপে দেখা গেছে ব্রাজিলকে। এই পারফরম্যান্স হয়তো সমর্থকদের মনে নতুন করে বিশ্বাস জাগাবে যে, হেক্সা মিশন এখনও শেষ হয়ে যায়নি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

12 − eleven =