ইংল্যান্ডকে রুখে দিল ঘানা

বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খেয়েছে ইংল্যান্ড। মঙ্গলবার গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে ঘানার সাথে গোলশুন্য ড্র করে হতাশ করেছে থমাস টাচেলের দল। এই ড্রয়ে গ্রুপ ‘এল’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে নকআউট পর্বে ওঠার লক্ষ্যে ইংল্যান্ডের অপেক্ষা আরও বাড়লো।

ইংল্যান্ডের হয়ে গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন নিকো ও’রিলি। ম্যাচের শেষ দিকে তাঁর হেড বারপোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে অধিনায়ক হ্যারি কেন শট নিলেও তা ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৪-২ ব্যবধানে জয়ের পর ইংল্যান্ডের কাছ থেকে আরও ভালো পারফরম্যান্স প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু এই ম্যাচের পারফরমেন্সে তাদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

পুরো ম্যাচে বলের দখলে আধিপত্য ছিল ইংল্যান্ডের। তারা ১৯টি শট নেয়, যেখানে ঘানার শট ছিল মাত্র দুটি। তবুও বোস্টনের কাছে জিলেট স্টেডিয়ামে ৬৩,৯৮৩ দর্শকের সামনে ঘানার দ্বিতীয় গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারেকে খুব একটা পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তারা।

দুই দলেরই এখন চার পয়েন্ট। গ্রুপ পর্বে একটি করে ম্যাচ বাকি আছে। পরবর্তী রাউন্ডে ওঠা প্রায় নিশ্চিত হলেও গ্রুপে কার অবস্থান কোথায় হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি।

ম্যাচ শেষে কেন বলেন, “অবশ্যই আমরা জয় না পাওয়ায় হতাশ। এমন একটি ম্যাচ ছিল যেখানে আমরা ১-০ বা ২-০ ব্যবধানে জিতে মাঠ ছাড়তে পারতাম। তারা যেভাবে খেলেছে, তাতে ম্যাচটি খুব সুন্দর হবে, এমনটা আশা করা কঠিন ছিল। তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে, তারা দারুণভাবে রক্ষণ সামলেছে এবং পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক ছিল। আমরা এক পয়েন্ট পেয়েছি, এখন সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”

ঠান্ডা আবহাওয়ায় ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স ছিল ধীরগতির ও প্রাণহীন, যা অনেকটা ইউরো ২০২৪-এ তাদের কিছু হতাশাজনক ম্যাচের কথা মনে করিয়ে দেয়।

তবে এর কোনো বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। তারা শেষ ৩২’এ ওঠার আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছেছে। শনিবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ইতোমধ্যেই বিদায় হওয়া পানামার বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচটি নিরাপদে পার করতে পারলেই নকআউট পর্বের দিকে মনোযোগ দিতে পারবে ইংল্যান্ড।

বিশ্বকাপে আফ্রিকান কোনো দলের কাছে ইংল্যান্ড কখনও হারেনি। তবে বিশ্বের র‌্যাঙ্কিংয়ে ইংল্যান্ডের চেয়ে ৬৯ ধাপ পিছিয়ে ৭৩তম স্থানে থাকা ঘানাা দুর্দান্ত লড়াই করেছে এবং অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়েছে।

ঘানার ‘ব্ল্যাক স্টার্স’ দলের কোচ হিসেবে শেষ মুহূর্তে অভিজ্ঞ কার্লোস কুইরোসকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ক্রমেই সঠিক বলে মনে হচ্ছে। পানামার বিপক্ষে ১-০ জয়ের পর এবার তারা ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও মূল্যবান এক পয়েন্ট আদায় করেছে। ২০১০ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালিস্ট ঘানা পরের ম্যাচে ফিলাডেলফিয়ায় ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে।

পানামা ম্যাচে আহত হওয়া লরেন্স আতি জাইগির পরিবর্তে স্থানীয় ক্লাবের গোলরক্ষক আসারে রুর একাদশে জায়গা পান।

উইংয়ে নোনি মাদুয়েকে ও এন্থনি গর্ডন পার্থক্য গড়ে দিতে ব্যর্থ হন। বদলি খেলোয়াড়েরাও ম্যাচে তেমন কোনও প্রভাব ফেলতে পারেননি।

প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে ভালো সুযোগ ছিল ডিক্লান রাইসের একটি ফ্রি-কিক, যা অল্পের জন্য বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ম্যাচে প্রায় ঘন্টাখানেক পর আসারেকে কিছুটা বিপদে ফেরাতে সক্ষম হন গর্ডন।

শেষ কয়েক মিনিটে চাপ কিছুটা বাড়ে। আসারে দারুণ এক সেভে বুকায়ে সাকার নিচু শট ঠেকান। এরপর ও’রিলির হেড পোস্টে লাগে এবং ফিরতি বলে কেনের শট ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রতেই শেষ হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 × five =