কাতারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বসনিয়া, প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে

বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কাতারকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের কাজটা সেরে রাখার পর সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবে শেষ ৩২-এ ওঠার সুখবর পায় ইউরোপের দলটি।

তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘বি’-তে তৃতীয় স্থান অর্জন করে বসনিয়া। ম্যাচ শেষে ফিফার হিসাব অনুযায়ী সেরা তৃতীয় স্থানধারীদের তালিকায় জায়গা নিশ্চিত হওয়ায় ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনা করে তারা। অন্যদিকে ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক কাতারের এবারের যাত্রা শেষ হয়েছে গ্রুপ পর্বেই।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বসনিয়া। ২৯তম মিনিটে ১৮ বছর বয়সী কেরিম আলাবেগোভিচ দুর্দান্ত একক নৈপুণ্যে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। বিশ্বকাপে এটি ছিল বসনিয়ার তরুণতম খেলোয়াড়ের গোলের নতুন রেকর্ড।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বসনিয়া। অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এডিন জেকোর শট কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাডারের গায়ে লেগে জালে জড়ালে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইউরোপীয় দলটি।

তবে বিরতির আগেই ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় কাতার। ৪২তম মিনিটে দলের অভিজ্ঞতম ফুটবলার হাসান আল-হাইদোস গোল করে ব্যবধান কমান। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও আর কোনো গোল হয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধে কাতার সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও বসনিয়ার রক্ষণভাগ দৃঢ়তা দেখায়। ম্যাচ যখন উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে, তখন ৮০তম মিনিটে আরমিন মাহমিচ গোল করে বসনিয়ার জয় নিশ্চিত করেন। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল করে দলের নায়ক বনে যান এই ফরোয়ার্ড।

জাতীয় দলের হয়ে ১৫০তম ম্যাচ খেলতে নামা ৪০ বছর বয়সী এডিন জেকোর জন্যও দিনটি ছিল বিশেষ। তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব বসনিয়ার আক্রমণে বড় ভূমিকা রেখেছে।

এই জয়ে শুধু একটি ম্যাচ নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্যও অর্জন করেছে বসনিয়া। প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার আনন্দে এখন উচ্ছ্বসিত দেশটির ফুটবলপ্রেমীরা।

অন্যদিকে কাতার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিলেও অন্তত একটি পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে পেরেছে, যা ২০২২ সালে স্বাগতিক হিসেবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযানের চেয়ে কিছুটা স্বস্তির।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

sixteen − 10 =