ঢাকা, ২৭ জুন ২০২৬ – ভেনেজুয়েলায় গত বুধবার সন্ধ্যায় আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে পৌঁছেছে। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা জীবিতদের উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহায়তা সত্ত্বেও অভিযান ধীরগতিতে চলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জনঅসন্তোষ বাড়ছে। খবর বাসস
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, ভূমিকম্পের পর ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি সতর্ক করে দেন, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাস সংলগ্ন উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একের পর এক বহুতল ভবন ধসে পড়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো শুক্রবার রাতে দুর্গত এলাকায় প্রবেশ সীমিত করার ঘোষণা দেন।
ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে চিলিসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। লা গুয়াইরার একটি বড় আবাসিক কমপ্লেক্সে পরিচালিত উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নাদিওমার পোলাঙ্কো বলেন, ভবনগুলো সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে এবং জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা দিন দিন কমে আসছে। এখন মরদেহ উদ্ধারে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি সহায়তা ও ভারী যন্ত্রপাতির ঘাটতির কারণে অনেক এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক ও স্বজনরা নিজেদের উদ্যোগে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নিখোঁজ পাঁচ মাস বয়সী শিশু গেইলকে খুঁজতে থাকা মারজোসলি সালাজার জানান, ভূমিকম্পে তার ১৬ বছর বয়সী মেয়ে নিহত হয়েছে, আর শিশু সন্তান ও এক আত্মীয়ের এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি।
এদিকে, অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গেলে ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। উদ্ধার তৎপরতায় বিলম্ব এবং সরকারি ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, “সরকার জনগণের জন্য কিছুই করছে না।”
জাতিসংঘ জানিয়েছে, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, এল সালভাদরসহ অন্তত ১৭টি দেশের উদ্ধারকারী দল বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় কাজ করছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ২৫০ সদস্যের একটি বিশেষ দুর্যোগ মোকাবিলা দল, প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর এবং তিনটি বিশেষ উদ্ধার ইউনিট পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, ভূমিকম্পের আগেই ভেনেজুয়েলা খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তাজনিত নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল। এই দুর্যোগ দেশটির চলমান মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে।