দেম্বেলের দুরন্ত হ্যাটট্রিকে নরওয়েকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স

সালেক সুফী

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের ‘আই’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে উসমান দেম্বেলের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে নরওয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। টানা তিন ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট অর্জন করে নকআউট পর্বে আত্মবিশ্বাস নিয়ে জায়গা করে নিয়েছে লে ব্লুজরা। নরওয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে।

বস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি শুরু হওয়ার আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হলান্ড। তবে নরওয়ের কোচ হলান্ডকে পুরো ম্যাচেই বেঞ্চে রেখে দেওয়ায় বহুল প্রতীক্ষিত এই দ্বৈরথ দেখা হয়নি। অন্যদিকে এমবাপ্পে গোল না পেলেও দুটি অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। সপ্তম মিনিটে এমবাপ্পের নিখুঁত পাস ধরে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন দেম্বেলে। ২০তম মিনিটে আবারও এমবাপ্পের পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।

এক মিনিট পর নরওয়ের হয়ে ব্যবধান কমান থেলো আসগার্ড। তবে ৩২তম মিনিটে অরেলিয়াঁ চুয়ামেনির পাস থেকে নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন দেম্বেলে। মাত্র ৩২ মিনিটে করা এই হ্যাটট্রিক বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম। ১৯৫৪ সালে অস্ট্রিয়ার এরিক প্রবস্ট ২৪ মিনিটে দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড গড়েছিলেন। দেম্বেলে ছাড়িয়ে গেছেন ১৯৮৬ সালে ইংল্যান্ডের গ্যারি লিনেকারের ৩৫ মিনিটের হ্যাটট্রিককে। এছাড়া চলমান বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি ও জোনাথন ডেভিডের পর এটি তৃতীয় হ্যাটট্রিক।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পেনাল্টি পায় নরওয়ে। তবে লারসেনের দুর্বল শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁ। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের দখলে রাখে ফ্রান্স। ৬৫তম মিনিটে হ্যাটট্রিক করা দেম্বেলেকে বিশ্রাম দেওয়া হয় এবং শেষদিকে এমবাপ্পেকেও তুলে নেওয়া হয়।

যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে ব্রাডলি বারকোলার ক্রস থেকে হেডে গোল করে ফ্রান্সের ৪-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন ২১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড দিজিরে দুয়ে। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল।

মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে দেশে ফেরায় ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ে দেশঁ এই ম্যাচে ডাগআউটে ছিলেন না। তার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী কোচ গি স্তেফাঁ।

একই সময়ে গ্রুপের অন্য ম্যাচে ইরাককে ৫-০ গোলে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছে সেনেগাল। সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দলগুলোর একটি হিসেবে শেষ ষোলোতে ওঠার সম্ভাবনা এখনও টিকে রয়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধিদের। অন্যদিকে টানা তিন ম্যাচে হেরে এবং ১২ গোল হজম করে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ইরাক।

দেম্বেলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, এমবাপ্পের সৃজনশীলতা এবং দলগত নৈপুণ্যে ফ্রান্স স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল, এবারের বিশ্বকাপ শিরোপার অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার তারাই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eleven − ten =