বিশ্লেষণ – ব্যাটিং ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ের কাছে বাংলাদেশের হতাশাজনক হার, টি-টোয়েন্টি সিরিজে পিছিয়ে টাইগাররা

জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকল টি-টোয়েন্টি সিরিজেও। একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হার এবং তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে খোয়ানোর পর এবার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেও ৩২ রানের পরাজয় বরণ করেছে টাইগাররা। বুলাওয়েতে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে হতাশাজনক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ।

টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। পেস সহায়ক উইকেটে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে জিম্বাবুয়ে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭০ রান তোলে। জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে যায় ১৯ ওভারে ১৩৮ রানে।

বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র উজ্জ্বল দিক ছিলেন পেসার নাহিদ রানা। দুর্দান্ত গতির বোলিংয়ে ৪ ওভারে ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের সেরা বোলিং করেন তিনি। মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন নেন দুটি উইকেট। তবে অন্য বোলাররা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। বিশেষ করে স্পিনার মাহেদী হাসান ও নাসুম আহমেদ সাত ওভারে কোনো উইকেট না নিয়ে ৭৩ রান খরচ করেন। শেষ ওভারে নাহিদের ওপর চড়াও হয়ে জিম্বাবুয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১৮ রান যোগ করে।

জিম্বাবুয়ের হয়ে ব্রায়ান বেনেট ৪৪, রায়ান বার্ল অপরাজিত ৩০, ডিওন মায়ার্স ২০, অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ২০ এবং ব্র্যাড ইভান্স অপরাজিত ১৯ রান করে দলের সংগ্রহকে লড়াকু অবস্থানে নিয়ে যান।

১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান দ্রুত বিদায় নেন। পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয় ও নুরুল হাসানও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। মাঝের সারিতে ইয়াসির আলী ৩৮ বলে ৫৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও অন্য প্রান্ত থেকে কার্যকর সমর্থন পাননি। মাহেদী হাসান করেন ১৯ রান।

বাংলাদেশের শেষ পাঁচ উইকেট মাত্র ৮ রানে পড়ে যাওয়ায় ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় সফরকারীরা। জিম্বাবুয়ের দুই পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি ও রিচার্ড এনগারাভা চারটি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন।

ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশ নির্বাচন ও কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পেস সহায়ক উইকেটে অতিরিক্ত পেসার না খেলিয়ে তিন স্পিনার নিয়ে নামা, টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত এবং বোলারদের রোটেশন—সবকিছুই সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে শরিফুল ইসলামের অনুপস্থিতি এবং পেস আক্রমণের পূর্ণ সদ্ব্যবহার না হওয়া নিয়ে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, পূর্ণ শক্তির পেস আক্রমণ নিয়ে মাঠে নেমে জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশকে চাপে রাখে পুরো ম্যাচজুড়ে। ওয়ানডে সিরিজে বিশ্রামে থাকা এনগারাভা ও মুজারাবানির প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের ব্যাটিংকে আরও ভঙ্গুর করে তোলে।

এই হারে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে। সিরিজে টিকে থাকতে হলে ১৭ জুলাই একই ভেন্যু বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জয়ের বিকল্প থাকবে না বাংলাদেশের। না হলে টেস্ট ও ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা তৈরি হবে টাইগারদের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 × 5 =