দেশঁমের বিদায়, এমবাপের গোল্ডেন বুট, কেইনের শেষ বিশ্বকাপ?
ফিফা বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেকেই ‘সান্ত্বনার লড়াই’ বলে থাকেন। কারণ এই ম্যাচে মুখোমুখি হয় ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ হওয়া দুই দল। তবে বাস্তবে এই ম্যাচ অনেক সময়ই হয়ে ওঠে সম্মান রক্ষা, ব্যক্তিগত অর্জন এবং ইতিহাস গড়ার মঞ্চ।
শনিবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। ম্যাচটি শুধু তৃতীয় স্থান নির্ধারণের নয়; বরং এটি ঘিরে রয়েছে একাধিক আবেগঘন ও গুরুত্বপূর্ণ গল্প।
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙেছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে স্পেনের বিপক্ষে ২-০ গোলের পরাজয়ে বিদায় নিতে হয়েছে ফ্রান্সকে। ফলে দুই দলই এখন বিশ্বকাপ শেষ করতে চায় একটি জয় দিয়ে।
ফ্রান্সের জন্য ম্যাচটির সবচেয়ে বড় তাৎপর্য কোচ দিদিয়ের দেশঁমের বিদায়। প্রায় দেড় দশক ধরে ফরাসি ফুটবলের অন্যতম সফল অধ্যায় রচনা করেছেন তিনি। তার অধীনেই ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল ফ্রান্স, ২০২২ সালে খেলেছিল ফাইনাল এবং এবারও পৌঁছেছে শেষ চারে। তাই জয় দিয়ে সফল এই কোচকে বিদায় জানাতে চাইবেন কিলিয়ান এমবাপে ও তার সতীর্থরা।
ইংল্যান্ডের জন্যও ম্যাচটির গুরুত্ব কম নয়। ১৯৬৬ সালের পর আর বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষা শেষ হয়নি। আর ৩৩ বছর বয়সী অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জন্য এটিই হতে পারে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ। তাই অন্তত ব্রোঞ্জ জিতে আসর শেষ করার লক্ষ্য থাকবে থ্রি লায়ন্সদের।
ব্যক্তিগত অর্জনের লড়াইটিও সমান আকর্ষণীয়। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আট গোল করে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপে। অ্যাসিস্টে এগিয়ে থাকায় আপাতত শীর্ষস্থান মেসির দখলে। ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি গোল করলেই এমবাপে এককভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে ছয় গোল করে এখনও দৌড়ে টিকে আছেন হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এর গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের মূল্যবান পয়েন্ট, ব্রোঞ্জ পদক, বাণিজ্যিক গুরুত্ব এবং ব্যক্তিগত রেকর্ড—সব মিলিয়ে এই ম্যাচ বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই বিবেচিত হয়।
ইতিহাসও কিছুটা ফ্রান্সের পক্ষেই কথা বলছে। এর আগে তিনবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলে দুবার জয় পেয়েছে ফরাসিরা। অন্যদিকে ইংল্যান্ড দুবার এই ম্যাচ খেলেও একবারও জয়ের মুখ দেখেনি। ফলে এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ থমাস টুখেলের দলের সামনে।
সব মিলিয়ে কাগজে-কলমে এটি তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হলেও বাস্তবে এটি সম্মান রক্ষা, ব্যক্তিগত গৌরব, কোচের বিদায় এবং ইতিহাস বদলে দেওয়ার শেষ সুযোগ। তাই ব্রোঞ্জের এই লড়াইও বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হয়ে উঠতে পারে।