জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে সিরিজে সমতা আনলো বাংলাদেশ

একমাত্র টেস্টে ইনিংস পরাজয়, ওডিআই সিরিজে পরাজয়, টি২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচ হেরে নানা প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কাল বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচে চৌকষ ক্রিকেটার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ব্যাট হাতে রুদ্র মূর্তিতে আবির্ভুত হয়েছিল। বাংলাদেশ ইনিংসের শেষ ওভারে পর পর চার ছক্কায় জুড়ে দিয়েছিলো ২২ রান। সেই সুবাদে দলের স্কোর হয়ে গেলো ১৬০-১৬২ থেকে ১৮৬/৫। জবাবে স্বাগতিক দল ১৫২ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় ৩৪ রানে জয় পেলো বাংলাদেশ। এই জয় শুধু সিরিজে সমতায় আনেনি। অধিকন্তু শেষ ম্যাচ জিতে অন্তত একটি ফরম্যাটে জয় নিয়ে দেশে ফেরার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

ক্রমাগত পরাজয়ে বিপর্যস্ত বাংলাদেশের জন্য কাল ছিল বাঁচা মরার লড়াই। কাল হেরে গেলে তিন ফরম্যাটেই সিরিজ পরাজয়ের কলংক তিলক জুটতো। কাল কিন্তু টস জিতে জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশকে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি তানজিদ তামিম (৫৮) আর সাইফ হাসান হাসান প্রথম উইকেট জুটিতে ১২০ রান তুলে দলের অবস্থান সংহত করেছিল। অবশ্য এই সাফল্যে স্বাগতিক দলের ফিল্ডারদের বদান্যতা ছিল। সাইফ হাসানের দেওয়া ক্যাচ  ৫ বার লুফে নিতে বার্থ হয় জিম্বাবুয়ে ফিল্ডার্সরা।

ওরা দুজন আউট হবার পর এই সফরে ব্যাটিং ব্যর্থতার ধারাবাহিকতায় তাওহীদ হৃদয়  (৬), পারভেজ ইমন (১), নুরুল হাসান (৪) দ্রুত সাজঘরে ফিরেছিল। ১৬.৫ ওভারে রান ছিল ১৪১/৫। সেখান থেকে এই সিরিজে দলে ফেরা ইয়াসির আলী, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনকে সঙ্গী করে অবিচ্ছিন্ন ষষ্ট উইকেট জুটিতে যোগ করে ৪৫ রান। সাইফুদ্দিন শেষ ওভারেই পর পর চারটি ছক্কাসহ জুড়ে দেয় ২২ রান। ১৮৬/৫ দারুন মোমেনটাম সৃষ্টি করে বাংলাদেশের জন্য।

কাল বাংলাদেশের বোলিংয়ে বিচক্ষণতা ছিল। দলে রিশাদকে ফিরিয়ে আনাও ছিল ভালো সিদ্ধান্ত। সেই সঙ্গে সবার মাঝে জয়ের নেশা ছিল দৃশ্যমান। কাল বাংলাদেশের কার্যকরী বোলিং আর তুখোড় ফিল্ডিংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা। ২.৪ ওভারে ২১ রানে ৩ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ে ইনিংস গুটিয়ে গেছে ১৫২ রানে। ৩৪ রানে জয় তুলে নিয়ে বাংলাদেশ সিরিজে এনেছে সমতা।

তবে শেষ ম্যাচে পেশিতে টান পড়া নাহিদ রানা খেলতে পারবে কিনা শঙ্কা আছে। জিম্বায়ুয়ের রায়ান বারল ২৯, সিকান্দার রাজা ২৮, ব্র্যাড ইভান্স ২৫ করলেও কেউ রিশাদ হোসেন (৪/২৬) আর মেহেদী হাসানের (৩/২৪) ঘূর্ণি বল মোকাবেলায় ইনিংস বড় করতে পারেনি।

লড়াই করে ম্যাচ জয় করায় তৃপ্তি আছে। বিশেষ করে যদি সেই ম্যাচটি হয় বাঁচা মরার লড়াই। তবে বাংলাদেশের এখন মিশন শেষ ম্যাচ জয় করে অন্তত একটি ফরম্যাটে সিরিজ জয় নিয়ে দেশে ফেরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড 

বাংলাদেশ ১৮৬/৫ (তানজিদ তামিম ৫৮, সাইফ হাসান ৫৫, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ১০ বলে অপরাজিত ৩১, ইয়াসির আলী  ১২ বলে অপরাজিত ২২, রিচার্ড এনগ্রাভা ২/২৩, ব্র্যাড ইভান্স ২/৬৫)

জিম্বাবুয়ে ১৫২ অল আউট (রায়ান বারল ২৯, সিকান্দার রাজা ২৮, ব্র্যাড ইভান্স ২৫, রিশাদ হোসেন ৪/২৬, মাহেদী হাসান ৩/২৪)

বাংলাদেশ ৩৪ রানে জয়ী। সিরিজ ১-১ সমতা

ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়: মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + sixteen =