
গোলের বন্যায় ভাসা এক অবিশ্বাস্য ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম রোমাঞ্চকর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াই হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
ইংল্যান্ডের জয়ে হ্যাটট্রিক করেন বুকায়ো সাকা। এছাড়া একটি করে গোল করেন ডেকলান রাইস, এজরি কনসা এবং জুড বেলিংহাম। ফ্রান্সের হয়ে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে, আর বাকি দুটি গোল আসে ব্র্যাডলি বারকোলা ও উসমান দেম্বেলের পা থেকে।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রথমবারের মতো তৃতীয় স্থান অর্জন করল ইংল্যান্ড। অন্যদিকে জয় দিয়ে কোচ দিদিয়ের দেশঁমকে বিদায় জানানোর স্বপ্ন পূরণ হলো না ফ্রান্সের।

ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখায় ইংল্যান্ড। তৃতীয় মিনিটেই দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ডেকলান রাইস। ১৮ মিনিটে রাইসের ক্রস থেকে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজরি কনসা।
এরপর বুকায়ো সাকার জোড়া গোলে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় থ্রি লায়ন্স। ৩৭ মিনিটে বাঁ পায়ের শটে প্রথম গোল করার পর যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচ প্রায় একতরফা করে তোলেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে চারটি পরিবর্তন এনে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ফ্রান্স। বিরতির পর মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে এমবাপে ও বারকোলার গোলে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৪-২। ৬৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে স্কোরলাইন ৪-৩ করেন এমবাপে, ম্যাচে ফেরে দারুণ উত্তেজনা।

তবে ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাকা এবং ইংল্যান্ডকে ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ইনজুরি সময়ে দেম্বেলে আরও একটি গোল করে ব্যবধান ৫-৪ করলেও শেষ মুহূর্তে জুড বেলিংহাম একক নৈপুণ্যে গোল করে ইংল্যান্ডের ৬-৪ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচটি ছিল ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও স্মরণীয়। জোড়া গোল করে টুর্নামেন্টে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ উন্নীত করেছেন কিলিয়ান এমবাপে। এর ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে গেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২, যা নতুন এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
অন্যদিকে জুড বেলিংহামের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতে, যা এক আসরে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা গোল করার রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ম্যাচটি আরও একটি ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে। বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এর আগে কখনো ১০টি গোল হয়নি। গোলবন্যার এই লড়াই তাই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচগুলোর একটি হয়ে থাকবে।