২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ শুধু ইংল্যান্ডের ৬-৪ গোলের জয়ের জন্যই নয়, একাধিক ব্যক্তিগত ও টুর্নামেন্ট রেকর্ডের জন্যও ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গোলবন্যার এই ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপে, মাইকেল অলিসে এবং জুড বেলিংহ্যাম গড়েছেন একের পর এক নতুন মাইলফলক।
সবচেয়ে বড় অর্জনটি এসেছে ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের কাছ থেকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ উন্নীত করেন এবং গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে উঠে যান।
একই সঙ্গে বিশ্বকাপে মোট ২২ গোল করে তিনি লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেছেন। এছাড়া গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ গোল-অবদানের নতুন রেকর্ডও গড়েছেন এমবাপে। এর মাধ্যমে ১৯৭০ বিশ্বকাপে জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে দেন ফরাসি এই তারকা।
ফ্রান্সের মিডফিল্ডার মাইকেল অলিসেও নিজের নাম তুলেছেন রেকর্ড বইয়ে। একটি অ্যাসিস্ট করে তিনি এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের নতুন রেকর্ড গড়েছেন। এর আগে ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের গড়া রেকর্ডটি প্রায় সাত দশক ধরে অক্ষুণ্ন ছিল।
ইংল্যান্ডের হয়ে ইতিহাস গড়েছেন জুড বেলিংহ্যামও। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে করা গোলটি তাকে এক বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। পাশাপাশি মিডফিল্ডার হিসেবে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের নতুন নজিরও গড়েছেন তিনি।
ম্যাচটিও ছিল রেকর্ডময়। বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এর আগে কখনও ১০টি গোল হয়নি। ইংল্যান্ডের ৬-৪ ব্যবধানের এই জয় তাই ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সর্বাধিক গোলসমৃদ্ধ ও স্মরণীয় ম্যাচে পরিণত করেছে।
যদিও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ সাধারণত ফাইনালের আড়ালে চাপা পড়ে যায়, তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের এই লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের মনে থাকবে রেকর্ড, গোলবন্যা এবং দুর্দান্ত নাটকীয়তার জন্য। এক ম্যাচেই বদলে গেছে বিশ্বকাপের রেকর্ড বইয়ের একাধিক অধ্যায়।