ট্রাম্প-কিম বৈঠকের ইঙ্গিত, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

শিব্বীর আহমেদ ওয়াশিংটন ডিসি

ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হলেও উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আবার বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর পরপরই উত্তর কোরিয়া প্রায় ১০টি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

ট্রাম্পের নতুন বৈঠকের আগ্রহের মধ্যেই পিয়ংইয়ং স্পষ্ট করেছে, শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে আলোচনায় ফিরতে তারা প্রস্তুত নয়। কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং বলেছেন, ট্রাম্প ও তাঁর ভাইয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো হলেও উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ কোনোভাবেই বিসর্জন দেওয়া হবে না। ওয়াশিংটনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ছাড়া নতুন আলোচনা কঠিন হতে পারে বলে পিয়ংইয়ংয়ের অবস্থান থেকে ইঙ্গিত মিলেছে।

ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে বার্তা পিয়ংইয়ংয়ের

বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়া রাজধানী পিয়ংইয়ং অঞ্চল থেকে প্রায় ১০টি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পূর্ব দিকে সমুদ্রের দিকে নিক্ষেপ করে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়। উৎক্ষেপণের পর দক্ষিণ কোরিয়ায় জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে নজরদারি ও তথ্য বিনিময় জোরদার করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের নিন্দা জানিয়ে পিয়ংইয়ংকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানও উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ নিয়ে সমন্বয় করেছে।

সামরিক মহড়াও কমিয়ে দিল যুক্তরাষ্ট্র

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নামের বার্ষিক মহড়াটি ১১ দিন চলার কথা থাকলেও শুক্রবারই তা শেষ করা হয়েছে—নির্ধারিত সময়ের ছয় দিন আগে। যৌথ ফিল্ড প্রশিক্ষণও কমানো হয়েছে।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে উত্তর কোরিয়া এই পদক্ষেপকে যথেষ্ট মনে করছে না। কিম ইয়ো জং সামরিক মহড়া কমানোর পরও যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে ‘শত্রুতাপূর্ণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

নতুন বৈঠকের সম্ভাবনা কতটা?

ট্রাম্প ও কিম জং উন এর আগে তিনবার বৈঠক করেছেন। তবে ২০১৯ সালে হ্যানয় বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর দুই দেশের পারমাণবিক আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে যায়। এবার নতুন করে বৈঠক হলে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচিই আবার আলোচনার কেন্দ্রে আসতে পারে।কিন্তু এবার পরিস্থিতি আগের চেয়ে জটিল। পিয়ংইয়ং তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কও গভীর হয়েছে। ফলে নতুন আলোচনায় কিম জং উন আগের তুলনায় শক্তিশালী অবস্থান থেকে দর-কষাকষি করতে পারেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সব মিলিয়ে, একদিকে ট্রাম্পের বৈঠকের আগ্রহ, অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ—দুই বিপরীত বার্তায় আবারও কোরীয় উপদ্বীপের দিকে বিশ্বের নজর পড়েছে। এখন মূল প্রশ্ন, ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও ট্রাম্প-কিম নতুন করে আলোচনার টেবিলে ফিরতে পারবেন কি না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 × 4 =