১৮ উইকেটের রোমাঞ্চকর দিনে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে ১০৯ রানে

সালেক সুফী

ম্যাকায় টেস্টের প্রথম দিনটি ছিল বোলারদের দাপটের। সবুজ ঘাসে ঢাকা উইকেট, অসম বাউন্স ও বাতাস—সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বমানের পেস আক্রমণের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। দিন শেষে ১৮ উইকেটের পতনে অস্ট্রেলিয়া ১০৯ রানে এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশ এখনো ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৩৪ ওভারে ৬৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্ক একাই নেন ৬ উইকেট, প্যাট কামিন্সের শিকার ৩টি। তানজিদ তামিম, সাদমান ইসলাম ও নাজমুল শান্ত রানের খাতা খোলার আগেই ফেরেন। মোমিনুল হক করেন ৯ এবং মুশফিকুর রহিম ৫ রান।

তবে টপ অর্ডারের দ্রুত পতনের পর লোয়ার অর্ডারের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ ৬৪ রান পর্যন্ত পৌঁছায়। মেহেদী হাসান মিরাজ ১১, হাসান মাহমুদ ১০, তাইজুল ইসলাম ১১ ও শরিফুল ইসলাম ১৪ রান করেন। প্রথম ৬.৪ ওভারে মাত্র ১২ রানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশ আরও কম রানে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছিল।

জবাবে বাংলাদেশের পেস আক্রমণও দারুণভাবে লড়াইয়ে ফেরে। ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে শরিফুল ইসলাম দুর্দান্ত বোলিং করে ১১ ওভারে ৩৫ রানে ৬ উইকেট তুলে নেন। তার নৈপুণ্যে অস্ট্রেলিয়াও ৪১.৪ ওভারে ১৭৩ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করে। ফলে হাতে দুই উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার লিড দাঁড়ায় ১০৯ রান।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ক্যামেরন গ্রিন ৫১ রানে অপরাজিত রয়েছেন। স্টিভ স্মিথ করেন ৪২ এবং ট্রাভিস হেড ২২ রান। নাথান লায়ন ১০ রানে অপরাজিত।

প্রথম দিনের রেকর্ডে স্টার্ক-শরিফুল

ম্যাকায় টেস্টের প্রথম দিনটি রেকর্ডেও সমৃদ্ধ। এক দিনে পড়েছে ১৮ উইকেট। স্টার্ক মাত্র ২২ বলে পাঁচ উইকেট নিয়ে টেস্টে দ্রুততম পাঁচ উইকেট শিকারের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন। এর আগে গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ১৫ বলে পাঁচ উইকেট নিয়ে দ্রুততম ফাইফারের রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি।

শরিফুল ইসলাম ৮.৫ ওভারে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন, যা বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম—২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬.৫ ওভারে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন।

টেস্টের প্রথম ওভারে স্টার্কের উইকেট এখন ২৮টি। তবে ম্যাচের প্রথম ওভারেই তার শিকার ৯ উইকেট, যা টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ।

লড়াইয়ে ফিরতে হলে ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে বাংলাদেশকে

বর্তমান পরিস্থিতিতে ম্যাচের পাল্লা অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঝুঁকে থাকলেও বাংলাদেশের সামনে সুযোগ রয়েছে। আজ সকালে দ্রুত অস্ট্রেলিয়ার শেষ দুই উইকেট তুলে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে দীর্ঘ সময় ব্যাট করতে হবে বাংলাদেশকে।

প্রথম ইনিংসের বিপর্যয় কাটিয়ে অন্তত ১৫০-২০০ রানের লক্ষ্য দিতে পারলে ম্যাচে নাটকীয় মোড় আনার সুযোগ থাকবে। প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত জয়ের পর অস্ট্রেলিয়া যে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নেমেছে, তা প্রথম দিনের পারফরম্যান্সেই স্পষ্ট। তবে শরিফুলের নেতৃত্বে বাংলাদেশের বোলিং যে তাদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে, প্রথম দিনেই তার প্রমাণ মিলেছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৩৪ ওভারে ৬৪ অলআউট — শরিফুল ১৪, তাইজুল ১১, মিরাজ ১১; স্টার্ক ৬/১২, কামিন্স ৩/২৫।

অস্ট্রেলিয়া: ৪১.৪ ওভারে ১৭৩/৮ — গ্রিন ৫১*, স্মিথ ৪২, হেড ২২; শরিফুল ৬/৩৫।

 

দিন শেষে: অস্ট্রেলিয়া ১০৯ রানে এগিয়ে, হাতে ২ উইকেট।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

seven + nine =