কেভেম হজের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রবিবার চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান করেছে সফরকারীরা। এতে তাদের মোট লিড দাঁড়িয়েছে ৩১৫ রান।
হজের অপরাজিত ১৪০ রানের পাশাপাশি কেভিন উইকহ্যামের ৭৮ এবং ওপেনার ব্র্যান্ডন কিংয়ের ৬১ রানের ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আর মাত্র এক দিন বাকি থাকায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি সফরকারীদের হাতে। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশকে কঠিন লক্ষ্য দেওয়ার মতো অবস্থানে রয়েছে তারা। এই মুহূর্তে ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই রয়েছে।
প্রথম ইনিংসে ৩০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৭ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পুরো দিনজুড়েই ক্যারিবীয় ব্যাটারদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশের বোলাররা।
প্রথম উইকেটে জশুয়া ডা সিলভা ও কিং ৮৫ রান যোগ করেন। এরপর বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ডা সিলভাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে জুটি ভাঙেন। ৩৬ রান করে ফেরেন ডা সিলভা।
অন্যদিকে সাবলীল ব্যাটিংয়ে নিজের ষষ্ঠ টেস্ট অর্ধশতক তুলে নেন কিং। তবে ৬১ রান করার পর অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার হন তিনি। ৮৪ বলের ইনিংসে ১০টি চার ও একটি ছক্কা মারেন কিং।
দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর স্পিন দিয়ে সফরকারীদের চাপে ফেলার সুযোগ তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু হজ ও অভিষিক্ত উইকহ্যাম দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। স্পিনারদের বিপক্ষে নিখুঁতভাবে সুইপ শট খেলতে থাকেন দুজনই।
তৃতীয় উইকেটে ১৩১ রানের জুটি গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান তারা।
প্রথম ইনিংসে ৬১ রান করা উইকহ্যাম অভিষেকেই ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধশতক তুলে নেন। এক্সট্রা কাভার দিয়ে বাউন্ডারি মেরে ৬৮ বলে অর্ধশতকে পৌঁছান তিনি।
প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন উইকহ্যাম। কিন্তু তাইজুলের একটি ডেলিভারিতে আলতো করে খেলার চেষ্টা করতে গিয়ে সরাসরি বোলারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৭৮ রানে ফিরে যান তিনি।
তাইজুল দিন শেষে ১১৮ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন।
কোনও চাপ ছাড়াই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান হজ। তাইজুলকে স্কয়ার লেগের দিকে সুইপ করে এক রান নিয়ে ১৪২ বলে নিজের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।
দিনের খেলা শেষে ১৪০ রানে অপরাজিত আছেন হজ। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা আমির জাঙ্গু অপরাজিত আছেন ২০ রানে।
শেষ পর্যন্ত আলোকস্বল্পতার কারণে দিনের খেলা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে শেষ দিনে বাংলাদেশের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
এর আগে হাসান মাহমুদের ৯০ রানে ৬ উইকেট শিকারে প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে তাওহিদ হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৮৬ রান সংগ্রহ করে। এতে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড পেয়েছিল স্বাগতিকরা।