অভিষেক বিশ্বকাপেই ইতিহাস গড়ল কুরাসাও, ইকুয়েডরকে রুখে প্রথম পয়েন্ট অর্জন

সালেক সুফী

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম অংশগ্রহণেই ইতিহাস গড়ল ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও। দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দল ইকুয়েডরকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করেছে দলটি। একই সঙ্গে ইকুয়েডরের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার স্বপ্নও কার্যত শেষ হয়ে গেছে।

মাত্র দেড় লাখ জনসংখ্যার দেশ কুরাসাও এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছে। ক্যারিবীয় অঞ্চলের এই ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র ফুটবল বিশ্বে নতুন হলেও তাদের লড়াকু মানসিকতা ইতোমধ্যেই সবার দৃষ্টি কেড়েছে।

প্রথম ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে কানসাস সিটিতে তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র উপহার দেয়। দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম শক্তিশালী দল ইকুয়েডরের বিপক্ষে তারা অসাধারণ রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলেছে।

অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে ১-০ গোলে হেরে আসা ইকুয়েডরের জন্য ম্যাচটি ছিল বাঁচা-মরার লড়াই। জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না তাদের সামনে। কিন্তু সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি দলটি।

ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই বেশ কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তোলে। তবে ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় কোনো দলই গোল করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডর একের পর এক আক্রমণ চালালেও কুরাসাওয়ের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগের সামনে বারবার ব্যর্থ হয়।

পাল্টা আক্রমণ থেকেও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল কুরাসাও। তবে ম্যাচের সবচেয়ে উজ্জ্বল নায়ক ছিলেন তাদের গোলরক্ষক এলয় রুম। অসাধারণ দক্ষতায় একের পর এক নিশ্চিত গোল রুখে দেন তিনি।

পুরো ম্যাচে ১৫টি সেভ করেন এই গোলরক্ষক, যার মধ্যে একাধিক ছিল নিশ্চিত গোল বাঁচানোর মতো। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর অসাধারণ নৈপুণ্য ইকুয়েডরের হতাশা আরও বাড়িয়ে দেয়।

ইকুয়েডর কিছুটা দুর্ভাগ্যেরও শিকার হয়েছে বলা যায়। চারবার তাদের গোলমুখী শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তবুও ম্যাচের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারার দায় তাদের নিজেদেরই নিতে হবে।

অন্যদিকে কুরাসাও বীরের মতো লড়াই করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করেছে। এই পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে, সঠিক পরিকল্পনা ও দৃঢ় মানসিকতা থাকলে ছোট দলও বড় প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।

গ্রুপের শেষ ম্যাচে কুরাসাও মুখোমুখি হবে আইভরি কোস্টের। অন্যদিকে ইকুয়েডরকে খেলতে হবে জার্মানির বিপক্ষে। ইতোমধ্যেই জার্মানি পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করেছে। আইভরি কোস্টও শেষ ষোলোয় ওঠার পথে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।

২০ জুন দিনটি কুরাসাও ফুটবলের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আর গোলরক্ষক এলয় রুম দেশের ফুটবল ইতিহাসে জাতীয় বীরের মর্যাদা পাওয়ার দাবিদার হয়ে থাকবেন।

ক্যারিবীয় অঞ্চলের এই ক্ষুদ্র দেশটি ভবিষ্যতে বড় এক ফুটবল শক্তিতে পরিণত হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আজকের পারফরম্যান্স সেই সম্ভাবনারই শক্ত ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

two × four =