ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, দূষণ কমাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর

ঢাকা, ১৫ জুলাই ২০২৬: ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কোনো অবস্থাতেই কাঠ ব্যবহার করা যাবে না বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। একই সঙ্গে ইটভাটা বন্ধ করার পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূষণ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিবিএমওএ)-এর নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ইটভাটা শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং বায়ুমানের উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, দেশে এখনো ইটের কার্যকর বিকল্প পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। তাই ইটভাটা বন্ধ না করে কীভাবে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূষণ কমানো যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইট তৈরিতে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) ব্যবহারের কারণে জমির উৎপাদনক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে এবং আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প কাঁচামাল ও প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে হবে।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চ সালফারসমৃদ্ধ কয়লা ব্যবহারের ফলে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই ইটভাটায় ব্যবহৃত কয়লার মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ফিরোজ হায়দার খান ও মহাসচিব মমিন উল্লাহ খান-এর নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা ইটভাটা শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

আলোচনায় টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে ইট উৎপাদন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিল্প মালিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সাইদুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

nineteen − one =