এমবাপের পেনাল্টি গোলে শেষ আটে ফ্রান্স, কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ মরক্কো

কঠিন, শারীরিক সংঘর্ষে ভরা এক উত্তপ্ত লড়াইয়ে কিলিয়ান এমবাপের দ্বিতীয়ার্ধের পেনাল্টি গোলে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে নান্দনিক ফুটবলের চেয়ে কড়া ট্যাকল, তীব্র রক্ষণ, বিতর্ক এবং উত্তেজনাই ছিল বেশি। এই জয়ে শেষ আটে মরক্কোর মুখোমুখি হবে দিদিয়ের দেশমের দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই পাঁচ ডিফেন্ডারের রক্ষণভাগ সাজিয়ে ফ্রান্সের আক্রমণ ঠেকানোর কৌশল নেয় প্যারাগুয়ে। কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে ও অ্যাড্রিয়েন রাবিওদের একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য থাকলেও প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলমুখে কার্যকর শট নিতে পারেনি। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমার্ধে উভয় দলের গোলমুখে শট না থাকার বিরল ঘটনাও দেখা যায় এই ম্যাচে।

বিরতির পর আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় ফ্রান্স। এমবাপে ও দেম্বেলের নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণে চাপ বাড়তে থাকে প্যারাগুয়ের রক্ষণে। তবে গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল ও রক্ষণভাগ দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৭০তম মিনিটে। বদলি হিসেবে নামা দেজিরে দুয়ে দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে বক্সে ঢুকে পড়লে তাকে ফাউল করেন দিয়েগো গোমেজ। রেফারি প্রথমে খেলা চালিয়ে দিলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। স্পট কিক থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে।

এটি ছিল এবারের বিশ্বকাপে এমবাপের সপ্তম গোল এবং বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ১৯তম গোল। এর ফলে তিনি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে লিওনেল মেসির সমকক্ষ হয়েছেন এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মেসির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।

গোল হজমের পর প্যারাগুয়ে কয়েকটি আক্রমণ গড়লেও ফরাসি রক্ষণকে বড় কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। অন্যদিকে যোগ করা সময়ে এমবাপের পরপর দুটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। তার দুর্দান্ত সেভে ব্যবধান আর বাড়েনি।

ম্যাচজুড়েই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছিল চোখে পড়ার মতো। একাধিক কঠোর ট্যাকল, ধাক্কাধাক্কি এবং বাকবিতণ্ডায় বারবার খেলা থেমে যায়। এমবাপে, অলিসে ও প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডারদের মধ্যে কয়েক দফা উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলেও রেফারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন।

শেষ পর্যন্ত এমবাপের একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স। তবে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দলটি এই ম্যাচে প্রত্যাশিত ছন্দে খেলতে পারেনি। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে দেশমের শিষ্যদের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

sixteen + five =