কেনের জোড়া গোলে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, কঙ্গোকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড

অধিনায়ক হ্যারি কেনের শেষ মুহূর্তের জোড়া গোলে সম্ভাব্য বড় অঘটন এড়িয়ে ডিআর কঙ্গোকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে জয় তুলে নেয় থমাস টুখেলের শিষ্যরা।

আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছিল ডিআর কঙ্গো। ২৬তম মিনিটে চ্যানসেল মবেম্বার ক্রস ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন ইংল্যান্ডের রাইট-ব্যাক জেড স্পেন্স। সেই সুযোগে বল পেয়ে নিচু শটে গোল করে কঙ্গোকে এগিয়ে দেন ব্রায়ান সিপেঙ্গা। গোলটি ঠেকানোর সুযোগ থাকলেও ব্যর্থ হন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।

গোল হজমের পর কিছুটা এলোমেলো হয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। মাঝমাঠে জুড বেলিংহ্যাম হলুদ কার্ড দেখেন এবং হাইড্রেশন বিরতির সময় কোচ টমাস টুখেলের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়েও জড়িয়ে পড়েন। তবে বিরতির আগে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ইংল্যান্ড। ডিক্লান রাইসের ক্রস থেকে বেলিংহ্যামের হেড এবং মার্কাস রাশফোর্ডের জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিহত করেন কঙ্গোর গোলরক্ষক লায়নেল এমপাসি।

প্রথমার্ধে ইয়োয়ান উইসার সহজ সুযোগ নষ্ট না হলে কঙ্গো ব্যবধান আরও বাড়াতে পারত। অন্যদিকে, হ্যারি কেন বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হওয়ার দাবি জানালেও রেফারি পেনাল্টি দেননি।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণভাগে পরিবর্তন এনে বুকায়ো সাকা, অ্যান্থনি গর্ডন ও এবেরেচি এজেকে মাঠে নামান টুখেল। সেই পরিবর্তনের সুফল আসে ৭৫তম মিনিটে। গর্ডনের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে সমতা ফেরান হ্যারি কেন।

ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখন ৮৬তম মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। অ্যান্থনি গর্ডনের বাড়ানো বল থেকে দুর্দান্ত জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের জয়সূচক গোলটি করেন কেন। ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।

এই জোড়া গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে হ্যারি কেনের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩-তে। চলতি আসরে তিনি করেছেন পাঁচ গোল, ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি ছিল তার ৮৪তম গোল।

অন্যদিকে, ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে ডিআর কঙ্গো রূপকথার মতো যাত্রা শেষ করল। তবে টুর্নামেন্টের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী ইংল্যান্ডকে দীর্ঘ সময় চাপে রেখে তারা নিজেদের সামর্থ্যের দারুণ প্রমাণ দিয়েছে।

শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ডের সামনে অপেক্ষা করছে স্বাগতিক মেক্সিকো। ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য সেই ম্যাচে জয় পেতে হলে টমাস টুখেলের দলকে আরও পরিণত ও ধারাবাহিক ফুটবল খেলতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

thirteen − eight =