সালেক সুফী
বিশ্বকাপে অঘটনের মিছিল যেন থামছেই না। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিদায়ের পর এবার টুর্নামেন্ট ছাড়তে হলো ইউরোপের আরেক পরাশক্তি নেদারল্যান্ডসকে। মেক্সিকোর মনতেরেতে অনুষ্ঠিত শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ১২০ মিনিট শেষে ১–১ সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৩–২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বকারী মরক্কো।
১৯৭৪ ও ১৯৭৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপ এবং ‘টোটাল ফুটবল’-এর জনক হিসেবে পরিচিত নেদারল্যান্ডসকে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী ধরা হচ্ছিল। কিন্তু মরক্কোর দৃঢ় রক্ষণ, লড়াকু মানসিকতা এবং টাইব্রেকারের স্নায়ুচাপ সামলে নেওয়ার দক্ষতার কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়েছে ডাচদের।

ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি। দ্বিতীয়ার্ধের ৭২তম মিনিটে কোডি গাকপোর গোলে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। মনে হচ্ছিল, জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে ডাচরা। কিন্তু যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে (৯১তম) ইসা দিওপের দারুণ গোলে সমতায় ফেরে মরক্কো।
অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও দুই দলই গোলের একাধিক সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি। ৯৬তম মিনিটে মরক্কোর ফরোয়ার্ড সুফিয়ান রাহিমি প্রায় নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েও ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেনকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের দায়িত্ব পড়ে টাইব্রেকারের ওপর।
টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। দ্বিতীয় শটে জাস্টিন ক্লুইভার্টের শট পোস্টে লাগে। চতুর্থ শটে কুইন্টেন টিম্বারের প্রচেষ্টাও পোস্টে প্রতিহত হয়। পঞ্চম শটে ক্রিসেনসিও সামারভিলের শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন মরক্কোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।
অন্যদিকে মরক্কোও নিখুঁত ছিল না। প্রথম শটে নিল এল আয়নাউয়ির প্রচেষ্টা পোস্টে লাগে এবং চতুর্থ শটে আশরাফ হাকিমির শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে পঞ্চম ও নির্ধারক শটে ইসমাইল সাইবারি অসাধারণ স্থিরতায় বল জালে জড়িয়ে মরক্কোকে ৩–২ ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন।