দুইবার পিছিয়ে থেকেও জয়, শেষ ৩২-এ মরক্কোর দাপুটে অগ্রযাত্রা

দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে মরক্কো। এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার দলটি। তবে গোল ব্যবধানে ব্রাজিলের চেয়ে পিছিয়ে থাকায় গ্রুপের শীর্ষস্থান হাতছাড়া হয়েছে তাদের।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই লড়াকু ফুটবল উপহার দেয় হাইতি। ম্যাচের ১০ মিনিটে জিন কেভিন ডুভার্নের ক্রস থেকে লেনি জোসেফের ফ্লিক মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোর গায়ে লেগে জালে জড়ালে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলের স্বাদ পায় ক্যারিবীয় দেশটি।

পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণের গতি বাড়ায় মরক্কো। ৩৯ মিনিটে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি সহজ এক ফিনিশিংয়ে সমতা ফেরান। তবে চার মিনিট পরই উইলসন ইসিডোরের দারুণ বাঁকানো শটে আবারও এগিয়ে যায় হাইতি।

বিরতির আগে দ্বিতীয়বারের মতো সমতায় ফেরে মরক্কো। হাকিমির নিচু ক্রস থেকে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় গোল করেন ইসমাইল সাইবারি।

দ্বিতীয়ার্ধে জয়সূচক গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে মরক্কো। শেষ ২০ মিনিটে কোচ মোহামেদ ওয়াহবির কৌশলী পরিবর্তন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ৭৮ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বলে সোফিয়ান রাহিমির শক্তিশালী শট ডিফ্লেক্ট হয়ে জালে জড়ালে প্রথমবারের মতো লিড নেয় মরক্কো।

এরপর ম্যাচের ৮৯ মিনিটে রাহিমির পাস থেকে জেসিমে ইয়াসিন গোল করে মরক্কোর জয় নিশ্চিত করেন।

তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করলেও গোল ব্যবধানে ব্রাজিলের পিছনে থেকে রানার্সআপ হয়েছে মরক্কো। আগামী সোমবার শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে জাপান অথবা নেদারল্যান্ডস।

অন্যদিকে, কোনো পয়েন্ট না পেলেও ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে হাইতি তাদের সাহসী ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিদায়ের ম্যাচেও হাজারো সমর্থকের সামনে লড়াই করে তারা প্রমাণ করেছে, ভবিষ্যতে বিশ্ব ফুটবলে তাদের সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

20 − sixteen =