বকেয়া পরিশোধে অগ্রগতি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখছে আদানি পাওয়ারের গোড্ডা কেন্দ্র

ঢাকা, ২৭ জুন ২০২৬: ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গোড্ডা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ আমদানার বিপরীতে জমে থাকা বকেয়া অর্থ পরিশোধেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে আদানি পাওয়ার।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) আদানি পাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিল সারদানা জানান, বাংলাদেশ অতীতের বকেয়া অর্থের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে পরিশোধ করেছে এবং অবশিষ্ট পাওনাও ধাপে ধাপে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বকেয়া অর্থের বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং এসব পাওনা দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখতে চায় না।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গোড্ডা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত পুরো বিদ্যুৎই বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়। অতীতে বিল পরিশোধে বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, গোড্ডা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন উচ্চ চাহিদার সময়ে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ সরবরাহ দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে সহায়তা করছে। বর্তমানে এই কেন্দ্র দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং উত্তরাঞ্চলের প্রায় ২৫ শতাংশ বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করছে।

অনিল সারদানা আরও বলেন, আদানি পাওয়ার ও বিপিডিবির মধ্যে যে বিরোধ রয়েছে, তা মূলত আমদানিকৃত জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ এবং মূল্যসূচক (বেঞ্চমার্ক ইনডেক্স) সংক্রান্ত সীমিত কিছু বিষয়ে। এসব মতপার্থক্য বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো প্রভাব ফেলছে না এবং বিদ্যমান চুক্তির আওতায় আলোচনার মাধ্যমেই এর সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

যদিও এজিএমে বকেয়া অর্থের নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি, বিপিডিবির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ যে বকেয়া অর্থ স্বীকার করেছে তার পরিমাণ ৪০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি। তবে আদানি পাওয়ারের দাবি করা মোট পাওনার পরিমাণ এর চেয়ে বেশি। বর্তমানে উভয় পক্ষ দাবি করা বকেয়া অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ ও নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

গোড্ডা বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাংলাদেশের সীমান্তপার বিদ্যুৎ আমদানার অন্যতম প্রধান উৎস। দেশীয় জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা এবং শিল্প খাতে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মোকাবিলায় ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানার ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five × five =