‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শন বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন করবেন রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ছবির প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল। কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে ছবিটির প্রদর্শনী স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় প্রতিবাদে সোমবার জাতীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহবাজপুর ইউনিয়নে বিকেল ৪ টা ১৫ মিনিটে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে। সেখানে তিনি উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে রুমিন ফারহানা লিখেছেন, ‘‘বনলতা এক্সপ্রেস’ মুভি প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে একটি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি হবে। উপস্থিত থাকবো আমি রুমিন ফারহানা।’’

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তানিম নূর পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেসের’ নির্ধারিত দুটি প্রদর্শনী বন্ধ হওয়াকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে জেলার ১০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন।

শনিবার অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুমতিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে চলচ্চিত্রটির একটি বিশেষ প্রদর্শনী আয়োজনের কথা ছিল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিকে কেন্দ্র করে কিছু প্রচারণার পর ভেন্যু কর্তৃপক্ষ পূর্বানুমতি প্রত্যাহার করে নেয়। এতে প্রদর্শনীটি স্থগিত হয়ে যায়।

একই দিন কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে স্থানীয় তরুণদের উদ্যোগে আরেকটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হলেও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেটিও বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এই দুই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, একটি মহল ধর্মীয় আবেগের ‘ভুল ব্যাখ্যা’ তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলচ্চিত্রটির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়, যার ফলে প্রদর্শনী ব্যাহত হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশ ফিল্ম সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩ অনুযায়ী অনুমোদিত এবং দেশ-বিদেশে প্রদর্শিত ও প্রশংসিত হয়েছে। এতে নির্মাতা তানিম নূরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতিসন্তান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। নিজ জন্মভূমিতে তার চলচ্চিত্র প্রদর্শন করতে না পারাকে তারা ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেন।

সংগঠনগুলো দাবি করেছে, চলচ্চিত্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পমাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত, যা সমাজের বাস্তবতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম তুলে ধরতে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানায়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে চলচ্চিত্রের প্রতি কিছু মহলের ‘বৈরি দৃষ্টিভঙ্গি’ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। তারা অগণতান্ত্রিক আচরণ, অসহনশীলতা ও উগ্রতার তীব্র নিন্দা জানায়।

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, খেলাঘর জেলা সংসদ, উদীচী জেলা সংসদ, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ জেলা কমিটি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জেলা শাখাসহ মোট ১০টি সংগঠনের প্রতিনিধি ও নেতারা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 × 4 =