বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজ: ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ফেভারিট

মে মাসে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অধীনে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ সিরিজে পাকিস্তান সফরে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে বাংলাওয়াশ করেছিল। স্বাভাবিক কারণেই আশা করা যেতেই পারে বাংলাদেশ সিরিজে থাকবে ফেভারিট।  ইতিমধ্যেই দুটি দেশ স্কোয়াড ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশ স্কোয়াড: নাজমুল হোসাইন শান্ত (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান জয়, সাদমান ইসলাম, মোমিনুল হক সৌরভ, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, নায়িম ইসলাম, এবাদত হোসাইন চৌধুরী, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, তানজিদ হাসান তামিম এবং অমিত হাসান।

পাকিস্তান স্কোয়াড: শান মাসুদ (অধিনায়ক), আব্দুল্লাহ ফজল, আমাদ বাট, আজান আওয়াজ, বাবর আজম, হাসান আলী, ইমামুল হক, খুররাম শাহজাদ, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ রিজওয়ান, মোহাম্মদ গাজী ঘোরী, নোমান আলী, সাজিদ খান, সালমান আলী আগা, সাউদ শাকিল এবং শাহীন শাহ আফ্রিদি।

দুটি স্কোয়াডে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন প্রান্তিক খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। টেস্ট ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম আর সিলেট জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ঢাকার পরিবর্তিত উইকেট আর সিলেটে স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে আশা করা যেতেই পারে। স্মরণীয় যে সাম্প্রতিক সময়ে নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন পিএসএল খেলে পাকিস্তান ব্যাটসম্যানদের যথেষ্ট পরীক্ষা নিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা সিরিজে কাজে লাগবে।

অন্যদিকে এবার পিএসএলে পাকিস্তানের ব্যাটিং মেরুদণ্ড বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আলী আগা, শান মাসুদ দুর্দান্ত ফর্মে আছে। সিরিজে লড়াই হবে মূলত বর্তমান মুহূর্তে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের। বাংলাদেশ টেস্ট দলের বাটিংয়ে মোমিনুল, মুশফিক, নাজমুল শান্ত এবং লিটন দাসের সঙ্গে কয়েকজন উঠতি প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান থাকায় বাংলাদেশ ভালো লড়াই আশা করতেই পারে।

টপ অর্ডারে বিকল্প সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ দুর্দান্ত ফর্মে থাকা তানজিদ তামিমকে স্কোয়াডে নিয়েছে, মিডল অর্ডারে সুযোগ দেওয়া হয়েছে ঘরোয়া ক্রিকেটে গেল কয়েক মৌসুম ভালো খেলা অমিত হাসানকে। তবে টপ অর্ডারে মাহমুদুল হাসান ছাড়া চারজন বাম হাতি। টিম ম্যানেজমেন্টকে ম্যাচ পরিস্থিতি অনুযায়ী লেফট রাইট কম্বিনেশন বিচক্ষণতার সঙ্গে করতে হবে। বাংলাদেশের মিডেল অর্ডারকে সতর্কতার সঙ্গে খেলতে হবে উঁচু মানের পাকিস্তানী স্পিন যুগল নোমান আলী আর সাজিদ খানকে।

বাংলাদেশ হয়ত নাহিদ রানা, শরিফুল, ইবাদাতকে নিয়ে পেস আক্রমণ সাজাবে। স্পিন আক্রমণের দায়িত্ব থাকবে তাইজুল আর মেহেদী মিরাজের হাতে। তবে দুই পেসার নিয়ে খেলানো হলে হয়ত নাঈম হাসান খেলবে তৃতীয় স্পিনার হিসাবে। তবে প্রচণ্ড গরমের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ তিন পেসার দুই স্পিনার নিয়ে আক্রমণ সাজানোর পরামর্শ দিবো।

আমার মতে ঢাকার প্রথম টেস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ দুই টেস্ট জয় করতে পারলে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান পর্যায়ে অনেক এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ায়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্পোর্টিং উইকেটে খেলেই অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 × 3 =