বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় অস্ট্রেলিয়ার, লড়াই করেও হার টাইগারদের

বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়েছে অস্ট্রেলিয়া। তিন ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৭ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় তুলে নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে সফরকারীরা।

এর আগে বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত একমাত্র টি-টোয়েন্টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। এবার সেই হতাশার প্রতিশোধ নিয়েই নতুন ইতিহাস লিখল অসিরা। খবর বাসস

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল অস্ট্রেলিয়া। উদ্বোধনী জুটিতে ১৭ বলে ৩০ রান যোগ করেন জশ ইংলিশ ও অধিনায়ক মিচেল মার্শ।

তবে বাংলাদেশ দ্রুত ম্যাচে ফিরে আসে। নাসুম আহমেদের বলে ১১ রান করে এলবিডব্লিউ হন ইংলিশ। এরপর কুপার কনোলিকে মাত্র ১ রানে ফেরান নাহিদ রানা। পাওয়ার প্লের শেষ বলে ২০ রান করে আউট হন মার্শ।

৪৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। সেই পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড।

দুজনের ৫০ বলে ৯৭ রানের বিধ্বংসী জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। টিম ডেভিড ২৬ বলে ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ফিরলেও রেনশ শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে দলের বড় সংগ্রহ নিশ্চিত করেন।

টি-টোয়েন্টিতে নিজের দ্বিতীয় অর্ধশতক তুলে নেওয়ার পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন ম্যাট রেনশ। ৫২ বলে ৪টি চার ও ৫টি ছক্কায় ক্যারিয়ারসেরা ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

শেষদিকে জোয়েল ডেভিসের ৮ বলে ১৩ রানের কার্যকর ইনিংসে ভর করে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৬ রানের শক্তিশালী সংগ্রহ দাঁড় করায় অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশের হয়ে নাসুম আহমেদ ২টি উইকেট নেন। এছাড়া মুস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন একটি করে উইকেট শিকার করেন।

১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। ২২ বলে ৪৮ রান যোগ করেন তারা।

তানজিদ ১৫ বলে ৩০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। এরপর সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসানের জুটিতে এগোতে থাকে বাংলাদেশ।

সৌম্য ৯ বলে ১৫ রান করে ফিরলেও তৃতীয় উইকেটে সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন ৩৬ বলে ৫৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে রাখেন।

এক পর্যায়ে বাংলাদেশের জয়ের জন্য ৪৪ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৬৭ রান, হাতে ছিল ৮ উইকেট।

১৩তম ওভারের পঞ্চম বলে পারভেজ হোসেন ইমনকে ফিরিয়ে ব্রেকথ্রু এনে দেন অ্যারন হার্ডি। এরপর দ্রুত সাইফ হাসান ও শামীম হোসেনের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

শেষ তিন ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৪২ রান। তবে অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণে লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে পড়ে টাইগাররা।

শেষ ওভারে ২৩ রান প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ তুলতে পারে ১৫ রান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৯ রান করে ৭ রানের হার মেনে নিতে হয় স্বাগতিকদের।

বাংলাদেশের হয়ে সাইফ হাসান ৩৩ বলে ৪২, পারভেজ হোসেন ইমন ২২ বলে ৩৬ এবং অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ২২ বলে ৩৫ রান করেন।

শেষ দিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইন ১১ বলে ১৩ রানে অপরাজিত থাকলেও দলের হার এড়ানো সম্ভব হয়নি।

ষষ্ঠ উইকেটে হৃদয় ও সাকলাইনের ২১ বলে ৩৬ রানের জুটি কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে।

তিন ম্যাচ সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। আগামী ২১ জুন একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ।

সিরিজ হার ইতোমধ্যেই নিশ্চিত হয়ে গেছে। এখন বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হবে হোয়াইটওয়াশ এড়ানো।

অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত অস্ট্রেলিয়া পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া: ১৯৬/৫ (২০ ওভার)

ম্যাট রেনশ ৮৯*, টিম ডেভিড ৪৫; নাসুম আহমেদ ২/২৭।

বাংলাদেশ: ১৮৯/৬ (২০ ওভার)

সাইফ হাসান ৪২, পারভেজ হোসেন ইমন ৩৬, তাওহিদ হৃদয় ৩৫; অ্যারন হার্ডি ২/৪০।

ফল: অস্ট্রেলিয়া ৭ রানে জয়ী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

twelve − eight =