রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরবিদায় নিলেন বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার

বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে জাতি বিদায় জানায় এই প্রথিতযশা শিল্পীকে, যিনি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চিত্রকলা, টেলিভিশন, শিশুতোষ অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।

দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসআই সাইফুল আলমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস দল শিল্পীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিগিউলের করুণ সুরে মুখরিত পরিবেশে রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

এর আগে সকাল ১১টার দিকে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হলে শিল্পী, সাহিত্যিক, নাট্যব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয় এই গুণী শিল্পীকে।

পরে মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজার জন্য নেওয়া হয়। জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ এবং চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও ভক্তদের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ রাখা হয়। এরপর বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। সর্বশেষ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। শারীরিক অবস্থার সাময়িক উন্নতি হওয়ায় কয়েক দিন আগে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়া হলেও পরে আবারও অবস্থার অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন বাংলাদেশের চারুকলা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। চিত্রকলার পাশাপাশি টেলিভিশনে শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলা এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনন্য। তাঁর মৃত্যুতে দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়ের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ শুধু একজন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পীকেই নয়, শিল্প-সংস্কৃতির এক নিবেদিতপ্রাণ অভিভাবককে চিরবিদায় জানাল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ten − two =