সুইডেনকে হালকাভাবে নিচ্ছে না ফ্রান্স, সতর্ক থাকার বার্তা দেশ্যমের

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মঙ্গলবার রাতে সুইডেনের মুখোমুখি হবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী থাকলেও প্রতিপক্ষকে বিন্দুমাত্র হালকাভাবে নিতে নারাজ ফরাসি প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশ্যম। তাঁর মতে, চাপমুক্ত অবস্থায় খেলতে নামা সুইডেন যেকোনো সময় বড় চমক দেখাতে পারে।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে দেশ্যম বলেন, “সুইডেনের হারানোর কিছু নেই। তারা নির্ভার হয়ে খেলবে এবং নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবে। তাই আমাদের বিনয়ী থাকতে হবে, সর্বোচ্চ মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। গ্রুপ পর্বে একটি ভুল শোধরানোর সুযোগ ছিল, কিন্তু নকআউটে দ্বিতীয় সুযোগ বলে কিছু নেই।”

ব্যক্তিগত কারণে কয়েকদিন দলের বাইরে ছিলেন দেশ্যম। মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে ফ্রান্সে যাওয়ায় নরওয়ের বিপক্ষে ৪–১ গোলের জয়ের ম্যাচে তিনি দলের সঙ্গে ছিলেন না। শনিবার বোস্টনে দলের ক্যাম্পে ফিরে আবার প্রস্তুতির দায়িত্ব নেন তিনি।

২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ২০২২ বিশ্বকাপের রানার্সআপ ফ্রান্স এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। যদিও গ্রুপ পর্বের শুরুটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। সেনেগালের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ছন্দ খুঁজে না পেলেও শেষ পর্যন্ত ৩–১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ‘লে ব্লু’রা। এরপর ইরাককে ৩–০ এবং নরওয়েকে ৪–১ গোলে হারিয়ে শতভাগ সাফল্য নিয়ে নকআউট পর্বে ওঠে।

গ্রুপ পর্বে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট পাওয়া মাত্র তিনটি দলের একটি ফ্রান্স। অন্য দুটি দল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং সহ-আয়োজক মেক্সিকো। এছাড়া ১০ গোল করে গ্রুপ পর্বে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও শীর্ষে রয়েছে ফরাসিরা।

তবে এসব পরিসংখ্যানকে সামনে রেখে আত্মতুষ্টির সুযোগ দেখছেন না দেশ্যম। তাঁর ভাষায়, “গ্রুপ পর্ব শেষ হয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচই আলাদা। আত্মবিশ্বাস আমাদের শক্তি, কিন্তু প্রতিপক্ষের মানও এখন অনেক উঁচু। তাই প্রতিটি মুহূর্তে সেরা ফুটবল খেলতে হবে।”

অন্যদিকে, বাছাইপর্বে নিজেদের গ্রুপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পরও উয়েফা নেশনস লিগের ফলাফলের সুবাদে প্লে-অফ খেলে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় সুইডেন। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫–১ গোলে হারের পর তিউনিসিয়াকে একই ব্যবধানে হারায় তারা। জাপানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ড্র করে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে সুইডিশরা।

প্রতিপক্ষের শক্তির জায়গাগুলোও তুলে ধরেন দেশ্যম। তিনি বলেন, “সুইডেন খুবই সংগঠিত ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী দল। ভিক্টর গিয়োকেরেস, আলেক্সান্ডার ইসাক এবং অ্যান্থনি এলাঙ্গার মতো আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।”

দল নির্বাচনে অবশ্য কিছু দুশ্চিন্তা রয়েছে ফ্রান্স শিবিরে। সামান্য পেশির চোটে আক্রান্ত ফরোয়ার্ড মার্কাস থুরামের খেলার সম্ভাবনা কম। অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার এন’গোলো কান্তেকেও নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে পিঠের চোট কাটিয়ে নরওয়ে ম্যাচে বিশ্রামে থাকা সেন্টার-ব্যাক উইলিয়াম সালিবা মূল একাদশে ফিরতে পারেন।

ফিফা বিশ্বকাপ বা ইউরো মিলিয়ে বড় কোনো টুর্নামেন্টে ফ্রান্স ও সুইডেনের সর্বশেষ এবং একমাত্র নকআউট-পূর্ব সাক্ষাৎ হয়েছিল ইউরো ২০১২-তে। এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন এক অধ্যায়ের অপেক্ষায় দুই দল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

four × two =